খুঁজুন
advertisement
advertisement
শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ, ১৪৩৩

লালমনিরহাটে চা-চাষ সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত খুলেছে: দুলু

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১৫ আগস্ট ২০২৬, ১:২৫ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
লালমনিরহাটে চা-চাষ সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত খুলেছে: দুলু

চা-চাষ লালমনিরহাটের কৃষি ও অর্থনীতিতে সম্ভাবনার নতুন দ্বার উন্মোচন করেছে বলে মন্তব্য করেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু এমপি।

তিনি বলেন, পরিকল্পিত চাষাবাদ, আধুনিক পরিচর্যা, উন্নত প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সুষ্ঠু বিপণন নিশ্চিত করা গেলে লালমনিরহাটের চা-শিল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কৃষকের আয় বৃদ্ধি এবং স্থানীয় আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

শনিবার (১৫ আগস্ট) সকালে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার পূর্ব বিছনদই (ডাউয়াবাড়ী) এলাকায় জেলার প্রথম প্রতিষ্ঠিত ‘সোমা চা-বাগান’ পরিদর্শন শেষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

দুলু বলেন, লালমনিরহাটের মাটি, ভূ-প্রকৃতি ও আবহাওয়া চা-চাষের জন্য উপযোগী। পাশের পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁওয়ের বিস্তীর্ণ সমভূমিতে ইতোমধ্যে চা-চাষের ব্যাপক প্রসার ঘটেছে। একই সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে লালমনিরহাটেও চা-শিল্পকে লাভজনক কৃষিভিত্তিক শিল্পে পরিণত করা সম্ভব।

মন্ত্রী বলেন, চা শুধু একটি কৃষিপণ্য নয়; এর সঙ্গে কৃষক, শ্রমিক, উদ্যোক্তা, পরিবহন ও বিপণনসহ বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে। এ শিল্পের বিকাশ হলে স্থানীয় পর্যায়ে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি এবং গ্রামীণ অর্থনীতির গতি আরও বাড়বে।

চা-শিল্পের প্রসারে সরকারের পক্ষ থেকে সম্ভব সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাসও দেন তিনি।

সংশ্লিষ্টরা জানান, রংপুর বিভাগের পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁওয়ের পর সাম্প্রতিক সময়ে চা-শিল্পের সম্ভাবনাময় জেলা হিসেবে এগিয়ে আসছে লালমনিরহাট। জেলার পাঁচটি উপজেলায় বর্তমানে প্রায় ২০০ একর জমিতে চা-বাগান গড়ে উঠেছে। এসব বাগান থেকে বছরে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মেট্রিক টন চা পাতা উৎপাদিত হচ্ছে।

স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত চা পাতার প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজারজাতকরণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক এবং স্থানীয় চা-বাগান মালিকদের যৌথ উদ্যোগে ‘সোমা অ্যান্ড সোমা টি প্রসেসিং লিমিটেড’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। এতে স্থানীয় চা পাতার মূল্য সংযোজনের পাশাপাশি বাজারজাতকরণের নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার হাসান রাজীব প্রধান, চা-বাগানের উদ্যোক্তা শাহান আরা বেগম সোমা, ফেরদৌস আলমসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বক্তব্য দেন।

সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

নেত্রকোনায় গোরস্থানের দখল নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ১২০

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১৫ আগস্ট ২০২৬, ২:৪৪ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
নেত্রকোনায় গোরস্থানের দখল নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ১২০

নেত্রকোনার কলমাকান্দায় পুরোনো একটি গোরস্থানের আধিপত্য ও সেখানে দোকান নির্মাণকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ১২০ জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার সকালে রংছাতি ইউনিয়নের আমগড়া, পুলিয়া ও পানেশ্বর পাড়ায় প্রায় এক ঘণ্টা ধরে সংঘর্ষ চলে। এ সময় অর্ধশতাধিক বাড়িঘর ও দোকানপাটে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে।

পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আমগড়া এবং পুলিয়া-পানেশ্বর পাড়ার মধ্যবর্তী প্রায় ১৮ কাঠা বা ১৪৪ শতাংশ জমির পুরোনো একটি গোরস্থান নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের বিরোধ চলে আসছে। সম্প্রতি আমগড়া গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা গোরস্থানের রাস্তার পাশে দোকান নির্মাণ করে বাজার বসানোর উদ্যোগ নিলে পানেশ্বর পাড়ার লোকজন এতে বাধা দেন।

তাদের দাবি, জমিটি ওয়াকফ সম্পত্তি এবং এটি কেবল কবরস্থান হিসেবে ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত।

বিরোধ মেটাতে প্রায় ১৫ দিন আগে ইউপি চেয়ারম্যান ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সালিশ বৈঠক হলেও কোনো চূড়ান্ত সমাধান হয়নি। শুক্রবার সকালে গোরস্থানে ব্যানার টাঙানোকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ফের উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে উভয় পক্ষ। সকাল ৮টা থেকে ৯টা পর্যন্ত চলে সংঘর্ষ।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষের সময় পুলিয়া ও পানেশ্বর পাড়ার ৫০ থেকে ৬০টি বাড়িঘর ও দোকানে ভাঙচুর চালানো হয়। একটি বিয়ের বাড়ির গেট ও গরুর খামারেও ভাঙচুরের অভিযোগ রয়েছে। পানেশ্বর পাড়ার বাসিন্দাদের দাবি, হামলার সময় প্রায় ২০ লাখ টাকার মালামাল লুট করা হয়েছে।

সংঘর্ষে দুই পক্ষের অন্তত ১২০ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে আমগড়া, নল্লাপাড়া ও হাসনাগাঁও গ্রামের ৫৪ জন আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। আহতদের কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে ছয়জনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। অন্যরা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন।

পানেশ্বর পাড়ার বাসিন্দা আব্দুল ওয়াহাব ও হোসেন মিয়া দাবি করেন, প্রায় ৮০ থেকে ৯০ বছর ধরে তাদের পূর্বপুরুষরা গোরস্থানটি দেখাশোনা করে আসছেন। সম্প্রতি প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা ব্যয়ে সেখানে মাটি কাটার কাজ করা হয়েছে। এ ছাড়া দেয়াল ও পিলার নির্মাণের জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য ১ লাখ ১৯ হাজার টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন বলেও জানান তারা।

তাদের অভিযোগ, আমগড়া গ্রামের কয়েকজনের নেতৃত্বে শুক্রবার সকালে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। গোরস্থানের জমির দলিল তাদের পক্ষে রয়েছে দাবি করে তারা প্রশাসনের মাধ্যমে বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধান চান।

অন্যদিকে আমগড়া গ্রামের কামাল পাশা গোরস্থানের পাশে দোকান নির্মাণের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, গোরস্থানের আধিপত্য নিয়েই মূলত বিরোধের সূত্রপাত। সালিশের পর পানেশ্বর পাড়ার লোকজন ওই এলাকায় গেলে সংঘর্ষ শুরু হয় বলে দাবি করেন তিনি।

রংছাতি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান পাঠান বাবুল ঘটনাটিকে দুঃখজনক উল্লেখ করে বলেন, পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত গোরস্থানের সার্বিক তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব ইউনিয়ন পরিষদকে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকা পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

আজ ১৫ আগস্ট: বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের ৫১ বছর

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১৫ আগস্ট ২০২৬, ২:২১ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
আজ ১৫ আগস্ট: বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের ৫১ বছর

আজ ১৫ আগস্ট। ১৯৭৫ সালের এই দিনে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাসভবনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করা হয়। ইতিহাসের অন্যতম নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের ৫১ বছর পূর্ণ হলো আজ।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ভোরে একদল বিপথগামী সেনাসদস্য বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে হামলা চালায়। ওই হামলায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পাশাপাশি তাঁর সহধর্মিণী বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, তিন ছেলে শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শেখ রাসেল এবং পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজী জামাল নিহত হন।

এ ছাড়া বঙ্গবন্ধুর একমাত্র ভাই শেখ আবু নাসের, তাঁকে রক্ষা করতে ছুটে আসা কর্নেল জামিল, পুলিশের বিশেষ শাখার কর্মকর্তা সিদ্দিকুর রহমান এবং সেনাসদস্য সৈয়দ মাহবুবুল হককেও হত্যা করা হয়।

একই রাতে বঙ্গবন্ধুর ভাগনে শেখ ফজলুল হক মনির বাসভবনেও হামলা চালানো হয়। সেখানে শেখ মনি ও তাঁর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আরজু মনিকে হত্যা করা হয়।

বঙ্গবন্ধুর ভগ্নিপতি আবদুর রব সেরনিয়াবাতের বাসভবনেও হামলা চালানো হয়। ওই ঘটনায় আবদুর রব সেরনিয়াবাত, তাঁর কন্যা বেবি, ছেলে আরিফ সেরনিয়াবাত, নাতি সুকান্ত বাবু, বড় ভাইয়ের ছেলে সজীব সেরনিয়াবাত এবং আত্মীয় আবদুল নঈম খান নিহত হন।

তৎকালীন সময়ে বিদেশে অবস্থান করায় বঙ্গবন্ধুর দুই মেয়ে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা এই হত্যাকাণ্ড থেকে প্রাণে বেঁচে যান।

হত্যাকাণ্ডের বিচার

দীর্ঘ সময় পর ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হয়। ১৯৯৮ সালের ৮ নভেম্বর বিচারিক আদালত মামলায় ১৫ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন। পরে উচ্চ আদালত ১২ আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন।

এখন পর্যন্ত ছয় আসামির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। একজন বিদেশে মারা গেছেন। আর পাঁচ আসামি এখনও পলাতক রয়েছেন।

বদলে গেছে ১৫ আগস্টের সরকারি মর্যাদা

একসময় ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস হিসেবে পালিত হতো এবং এ উপলক্ষে সরকারি ছুটিও ছিল। তবে ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এই ছুটি বাতিল করা হয়। ফলে বর্তমানে ১৫ আগস্ট আর সরকারি ছুটির দিন নয়।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের দিন ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পরবর্তী সময়ে বাড়িটিতে আবারও হামলা চালিয়ে ভবনটি ভেঙে ফেলা হয়।

স্বাধীনতার সংগ্রামে বঙ্গবন্ধুর ভূমিকা

বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নেতা হিসেবে পরিচিত। ষাটের দশকের শেষদিকে তাঁর নেতৃত্বে বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলন আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে। দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের মধ্য দিয়ে তিনি স্বাধীনতার আন্দোলনের প্রধান নেতায় পরিণত হন।

১৯৭১ সালের ৭ মার্চ তৎকালীন রমনা রেসকোর্স ময়দানে দেওয়া তাঁর ঐতিহাসিক ভাষণ মুক্তিযুদ্ধের সময় বাঙালির জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রেরণা হয়ে ওঠে। লাখো মানুষের সমাবেশে তিনি বলেছিলেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গভীর ও বিতর্কিত এক অধ্যায় হিসেবে রয়ে গেছে। প্রতিবছর এই দিনটি ঘিরে বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক ভূমিকা, হত্যাকাণ্ড এবং এর বিচার নিয়ে নানা আলোচনা ও বিতর্ক সামনে আসে।

সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

ভয়ংকর সাপ ধরেন এই নারী, তবে বেশি ভয় পান পুরুষদের

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১৫ আগস্ট ২০২৬, ১:৪৮ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
ভয়ংকর সাপ ধরেন এই নারী, তবে বেশি ভয় পান পুরুষদের

অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডের সানশাইন কোস্টের ৪০ বছর বয়সী কোর্টনি ব্রাউন পেশায় একজন লাইসেন্সধারী সাপ ধরার কর্মী। বিশ্বের অন্যতম বিষধর সাপসহ বিভিন্ন প্রজাতির সরীসৃপ ধরে নিরাপদ পরিবেশে ছেড়ে দেওয়াই তার কাজ। তবে কোর্টনির কাছে সাপের চেয়েও বেশি ভয়ংকর অপরিচিত কিছু পুরুষের আচরণ।

লন্ডনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডেইলি স্টারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই সন্তানের মা কোর্টনি প্রায় তিন বছর ধরে পেশাগতভাবে সাপ ধরছেন। গরমের মৌসুমে দিনে তাকে প্রায় ১০টি পর্যন্ত সাপ ধরার ডাক সামলাতে হয়। বিষধর সাপের সামান্য অসতর্কতাতেই কামড়ের শিকার হওয়ার ঝুঁকি থাকলেও এ কাজকে তিনি ভয় পান না।

কোর্টনি জানান, অনেক সময় অপরিচিত মানুষের বাড়িতে তাকে একাই যেতে হয়। বেশিরভাগ মানুষ সহযোগিতা করলেও কিছু পুরুষ তাকে সন্দেহজনক বা নির্জন জায়গায় আসতে বলেন। ফলে প্রতিবার বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় নিজের নিরাপত্তার বিষয়টিও মাথায় রাখতে হয়।

এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের কাজের ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করার কারণে কটূক্তি, অশালীন মন্তব্য ও অনলাইন ট্রলের শিকার হতে হয়েছে বলেও জানান তিনি।

সাপ ধরার এই পেশায় আসার আগে করপোরেট চাকরি করতেন কোর্টনি। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করলেও সেই জীবন তাকে তৃপ্ত করতে পারেনি। ছোটবেলা থেকেই প্রাণী, বিশেষ করে সাপের প্রতি তার আলাদা আগ্রহ ছিল। অবসর সময়ে রাতে হাঁটতে বের হয়ে সাপ খোঁজা এবং স্থানীয় প্রজাতি সম্পর্কে জানার অভ্যাসও ছিল তার।

দুই মেয়ে বড় হওয়ার পর নতুন করে কর্মজীবনে ফেরার সুযোগ পান কোর্টনি। তখন শুধু অর্থ উপার্জনের জন্য নয়, অর্থবহ একটি কাজ করার সিদ্ধান্ত নেন। প্রশিক্ষণ নিয়ে শুরু করেন সাপ ধরার পেশা।

এই কাজের জন্য বিষধর সাপ ধরার বিশেষ প্রশিক্ষণের পাশাপাশি প্রাথমিক চিকিৎসা ও বিভিন্ন প্রজাতির সাপ শনাক্ত করার কোর্স করেন তিনি। প্রয়োজনীয় অনুমতিপত্র পাওয়ার পর শুরু করেন পেশাগতভাবে সাপ উদ্ধার।

কোর্টনির কাছে সবচেয়ে বেশি আসা ডাকগুলোর একটি কার্পেট পাইথন ধরার জন্য। আকারে বড় হওয়ায় এসব সাপ বাড়িতে ঢুকলে মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। তবে কার্পেট পাইথন বিষধর নয় এবং সাধারণত মানুষকে আক্রমণ করে না।

এর পাশাপাশি ইস্টার্ন ব্রাউন স্নেক ও রেড-বেলিড ব্ল্যাক স্নেকের মতো অত্যন্ত বিষধর সাপও ধরেন কোর্টনি। এসব সাপ দ্রুত চলাফেরা করায় উদ্ধারের সময় তাকে বাড়তি সতর্ক থাকতে হয়।

কোর্টনির মতে, সাপকে ঘিরে মানুষের মধ্যে অযথা ভয় কাজ করে। তার ভাষায়, সাপ সাধারণত আক্রমণাত্মক নয়; বিপদ অনুভব করলেই আত্মরক্ষার শেষ উপায় হিসেবে কামড় দেয়।

বিষধর সাপ ধরার সময় নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে বিশেষ হুক ব্যবহার করেন কোর্টনি। পরিস্থিতি অনুযায়ী সাপকে নিয়ন্ত্রণ করে নিরাপদ ব্যাগে ঢোকানো হয়। এ সময় সাপের নড়াচড়া ও আচরণ খুব সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করতে হয়।

এক মুহূর্তের অসতর্কতাই বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে। কয়েকবার অবিষধর সাপের কামড় খেলেও এতে আতঙ্কিত হননি কোর্টনি। কারণ সাধারণত কোন প্রজাতির সাপের সঙ্গে কাজ করছেন, তা আগে থেকেই শনাক্ত করতে পারেন তিনি।

উদ্ধারের পর সাপগুলোকে উপযুক্ত প্রাকৃতিক পরিবেশে ছেড়ে দেওয়া হয়। কোর্টনির দাবি, সঠিক পরিবেশে ছেড়ে দিলে একই সাপ আবার সেই বাড়িতে ফিরে আসার সম্ভাবনা খুবই কম।

গরমের মৌসুমে তার ব্যস্ততা বেড়ে যায়। দিনে প্রায় ১০টি পর্যন্ত সাপ উদ্ধারের ডাক আসে। একা কাজ করার কারণে একদিকে যেমন শারীরিক চাপ বাড়ে, অন্যদিকে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সাপটিকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার চাপও থাকে।

তবে এত ঝুঁকিপূর্ণ কাজের মধ্যেও কোর্টনির কাছে সাপই সবচেয়ে বড় ভয় নয়। তার মতে, অপরিচিত মানুষের আচরণ এবং অজানা জায়গায় একা যাওয়ার ঝুঁকিই এই পেশার সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়।

সাপকে শান্ত ও ভুল বোঝা প্রাণী হিসেবে দেখেন কোর্টনি। মানুষের মধ্যে সাপ নিয়ে অযথা ভয় কমিয়ে সচেতনতা তৈরি করাই তার কাজের অন্যতম উদ্দেশ্য। তার মতে, সবাইকে সাপ ভালোবাসতে হবে না, তবে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সাপের গুরুত্ব সম্পর্কে সঠিক ধারণা থাকা জরুরি।

সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম