দুই দিনে পশ্চিমবঙ্গে দুই হোটেলে আগুন, কলকাতায় নিহত ৯
যোগফল প্রতিবেদক:
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে দুটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ বুধবার কলকাতার একটি হোটেলে আগুনে অন্তত ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। নিহতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এর আগে সোমবার বীরভূম জেলার তারাপীঠের একটি হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারান অন্তত ৮ জন। পরপর দুই ঘটনায় রাজ্যের হোটেলগুলোর অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার শিখা ইন আবাসিক হোটেলে বুধবার রাতে আগুনের সূত্রপাত হয়। প্রাথমিকভাবে শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) থেকে বিস্ফোরণের পর আগুন ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে আগুনের প্রকৃত কারণ জানতে ফরেনসিক তদন্ত করা হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, আগুন থেকে তৈরি ঘন ধোঁয়ার কারণে দমকলকর্মীদের ভবনের ওপরের তলায় পৌঁছাতে বেশ বেগ পেতে হয়। পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হলেও ভবনটি ঠান্ডা করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন দমকলকর্মীরা।
ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর পশ্চিমবঙ্গের ফায়ার সার্ভিসমন্ত্রী কৌশিক চৌধুরী জানিয়েছেন, নিহতদের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। মৃতদের মধ্যে ভারতীয় ও বাংলাদেশি নাগরিক থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।
মন্ত্রী বলেন, ভবনটির ভেতরের পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ ছিল। একই ভবনে একাধিক হোটেল পরিচালিত হচ্ছিল। তাঁর অভিযোগ, ভবন কর্তৃপক্ষ মৌলিক অগ্নিনিরাপত্তা ও নির্মাণসংক্রান্ত বেশ কিছু নিয়ম মানেনি।
এদিকে, হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের কারণ এবং নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘন করা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ভবনের মালিক বর্তমানে পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ ঘটনায় নিউমার্কেট থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। মালিককে গ্রেপ্তারের জন্য তাঁর বাড়িসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হচ্ছে।
অন্যদিকে, সোমবার তারাপীঠের হোটেলে আগুনের ঘটনায় শর্টসার্কিটকে প্রাথমিক কারণ হিসেবে ধারণা করছে স্থানীয় প্রশাসন। ওই ঘটনায় মামলা হওয়ার পাশাপাশি জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হোটেল পরিচালকদের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
অগ্নিনিরাপত্তা বিধি না মানার অভিযোগে তারাপীঠের অন্তত ১৫টি আবাসিক হোটেলের লাইসেন্সও বাতিল করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

আপনার মতামত লিখুন