সংশোধিত ৭০ অনুচ্ছেদেই হবে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ফ্রিজার ভ্যানে তৌফীক নাওয়াজের মরদেহ, পেছনে দীপু মনি
ছবি: সংগৃহীত
যোগফল প্রতিবেদক:
স্বামী ব্যারিস্টার তৌফীক নাওয়াজের শেষ বিদায়ে অংশ নিতে ১২ ঘণ্টার প্যারোলে মুক্তি পাওয়া সাবেক মন্ত্রী দীপু মনিকে প্রিজন ভ্যানে করে গুলশানের আজাদ মসজিদে নেওয়া হয়েছে। তার কয়েক মিনিট আগেই ফ্রিজার ভ্যানে করে একই পথে নেওয়া হয় তৌফীক নাওয়াজের মরদেহ।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুর সোয়া ১২টার পর এই দৃশ্য দেখা যায়।
এর আগে সকাল ৬টা ১৫ মিনিটে কঠোর পুলিশি নিরাপত্তায় মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগার থেকে প্রিজন ভ্যানে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন দীপু মনি। সকাল সোয়া ৮টার দিকে তিনি কলাবাগানের বাসায় পৌঁছান। পরে সেখানে নেওয়া হয় তার স্বামীর মরদেহ।
বাসার নিচের গ্যারেজে ফ্রিজার ভ্যানে মরদেহ রাখা হয়। এ সময় ফ্রিজার ভ্যানের পাশে কাপড় পেতে স্থানীয় বশির উদ্দিন রোড মসজিদের মুয়াজ্জিনসহ কয়েকজনকে কোরআন তেলাওয়াত করতে দেখা যায়। বাড়িটি ঘিরে সতর্ক অবস্থানে ছিল পুলিশ। সেখানে প্রবেশকারীদের জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়।
এদিকে দীপু মনিকে সান্ত্বনা দিতে চাঁদপুর আওয়ামী লীগের জাকিয়া সুলতানা শেফালীসহ কয়েকজন তার সঙ্গে দেখা করেন। জাকিয়া সুলতানা জানান, দীপু মনি স্বামীর মৃত্যুতে অত্যন্ত ভেঙে পড়েছেন।
দীপু মনির এক আত্মীয়ও জানান, মানসিকভাবে তিনি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন এবং কিছু খেতে চাইছেন না।
পারিবারিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দুপুরে তৌফীক নাওয়াজের মরদেহ গুলশানের আজাদ মসজিদে নেওয়া হয়। বাদ জোহর সেখানে জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। পরে বনানী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।
কলাবাগান থানার ওসি মো. ফজলে আশিক জানান, জানাজার সময় দীপু মনি প্রিজনভ্যানে থাকবেন। সময়ের মধ্যে সম্ভব হলে দাফনের সময় তাকে কবরস্থানে থাকার সুযোগ দেওয়া হবে। অন্যথায় তাকে কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হবে। তার প্যারোলের মেয়াদ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের আন্দোলনের পর বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে বর্তমানে মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারে রয়েছেন দীপু মনি।
তার স্বামী ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী তৌফীক নাওয়াজ মঙ্গলবার রাতে ঢাকার কন্টিনেন্টাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তার বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর।
দীর্ঘদিন ধরে কিডনি ও লিভারের বিভিন্ন জটিলতায় ভুগছিলেন তৌফীক নাওয়াজ। পেশায় আইনজীবী হওয়ার পাশাপাশি তিনি ধ্রুপদি সংগীতেরও চর্চা করতেন। ২০১৯ সালে তিনি স্ট্রোক করেছিলেন।
তৌফীক নাওয়াজ ও দীপু মনি দম্পতির এক ছেলে চীনে এবং মেয়ে ঢাকায় অবস্থান করছেন।
সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দিচ্ছেন সংসদ সদস্যরা
যোগফল প্রতিবেদক:
দীর্ঘ প্রায় ৩৫ বছর পর দেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জাতীয় সংসদে দ্বিতীয়বারের মতো ভোটাভুটি শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুর ২টা থেকে জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। চলবে বিকেল ৫টা পর্যন্ত।
এ নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন ৩৪৮ জন সংসদ সদস্য।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাঁর বিপরীতে ১১-দলীয় ঐক্যের প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল অলি আহমদ।
জাতীয় সংসদের চট্টগ্রাম-৪ আসনটি বর্তমানে শূন্য থাকায় মোট ভোটার সংখ্যা ৩৪৯ জন। তবে ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাস চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে থাকায় তিনি ভোট দিতে পারছেন না। ফলে কার্যত ৩৪৮ জন সংসদ সদস্য ভোট দিচ্ছেন।
মির্জা ফখরুলের জয় প্রায় নিশ্চিত
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জয়ী হতে প্রার্থীকে কমপক্ষে ১৭৫ ভোট পেতে হবে। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদ সদস্যরা দলীয় সিদ্ধান্তের বিপক্ষে ভোট দিতে পারেন না। ফলে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জয় প্রায় নিশ্চিত বলে মনে করা হচ্ছে।
নির্বাচিত হলে তিনি হবেন দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি।
সংসদ সদস্য হওয়ায় মির্জা ফখরুল নিজেও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন। তবে নির্বাচিত হলে তাঁর সংসদ সদস্য পদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে শূন্য হবে। একই সঙ্গে মন্ত্রী পদ থেকেও তাঁকে পদত্যাগ করতে হবে।
অন্যদিকে সংসদ সদস্য না হওয়ায় রাষ্ট্রপতি প্রার্থী অলি আহমদ ভোট দিতে পারবেন না।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, সংসদ কক্ষে চারটি ব্যালট বাক্স রাখা হয়েছে। সংসদ সদস্যরা প্রকাশ্যে ভোট দিচ্ছেন। ব্যালটে ভোটারের নামের পাশাপাশি তিনি কোন প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন, সেটিও উল্লেখ থাকবে।
ভোটগ্রহণের আগে সংসদ কক্ষে স্পিকারের আসনের সা
প্রকাশ্যে ভোট দিচ্ছেন এমপিরা
মনে নির্ধারিত স্থানে বসেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার, নির্বাচন কমিশনাররা, নির্বাচন কমিশন সচিব এবং সংসদ সচিবালয়ের সচিব। সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ আসনে বসেই ভোট দিচ্ছেন।
নির্বাচন পরিচালনায় সহায়তার জন্য নির্বাচন কমিশন থেকে ২০ জন কর্মকর্তার তালিকাও সংসদ সচিবালয়ে পাঠানো হয়েছে।
৩৫ বছর পর আবার ভোটাভুটি
১৯৯১ সালের পর এবারই প্রথম রাষ্ট্রপতি পদে ভোটাভুটি হচ্ছে। এর আগে অধিকাংশ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের মনোনীত প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন।
সর্বশেষ ১৯৯১ সালে রাষ্ট্রপতি পদে ভোটাভুটি হয়েছিল। ওই নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী আব্দুর রহমান বিশ্বাস রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।
তানজিলা / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

আপনার মতামত লিখুন