চিকিৎসককে মারধরের অভিযোগে তরুণী গ্রেপ্তার
যোগফল প্রতিবেদক:
ময়মনসিংহ নগরীর একটি পশু চিকিৎসাকেন্দ্রে ঢুকে চিকিৎসককে মারধর, চেম্বার ভাঙচুর ও পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে করা মামলায় এক তরুণীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার তরুণীর নাম আরফিন রশিদ সেঁজুতি (২০)। তিনি নগরের মাসকান্দা এলাকার হারুন অর রশিদের মেয়ে। শনিবার রাতে নগরের একটি এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুরে তাকে আদালতে হাজির করা হলে শুনানি শেষে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার সন্ধ্যায় নগরের জিলা স্কুলের পাশের গলিতে অবস্থিত ‘ডক্টরস পেট কেয়ার’ নামের পশু চিকিৎসাকেন্দ্রে কয়েকজন ব্যক্তি প্রবেশ করেন। এ সময় চিকিৎসক আশিকুর রহমানকে মারধর ও চেম্বারে ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। প্রায় এক মিনিট ৪৮ সেকেন্ডের ওই ফুটেজে এক নারীসহ কয়েকজনকে চিকিৎসকের চেম্বারে প্রবেশ করতে দেখা যায়। একপর্যায়ে ওই নারী জুতা খুলে চিকিৎসককে মারধর করেন বলে ফুটেজে দেখা যায়।
এ ঘটনায় চিকিৎসক আশিকুর রহমান শনিবার রাতে ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। পরে সেটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়। মামলায় তিনজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তালহাজুর রহমান ওরফে প্রতীককে প্রধান আসামি করা হয়েছে।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, হামলার আগে থেকেই চিকিৎসকের কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন অভিযুক্তরা। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি দেখানো হয়।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে অভিযুক্তরা চেম্বারে ঢুকে পাঁচ লাখ টাকা দেওয়ার জন্য চাপ দেন। চিকিৎসক প্রতিবাদ করলে তাকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে চেম্বারের সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ করে লোহার রড দিয়ে তাকে মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
চিকিৎসককে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে তার কর্মী ঈশান আহমেদকেও মারধর করা হয়। একই সঙ্গে চিকিৎসকের স্ত্রী সাজনিন তাসনিন সিদ্দিকীকে জোর করে চেম্বার থেকে বের করে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে ঘটনায় নাম আসার পর তালহাজুর রহমানকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম জানান, চিকিৎসককে মারধরের ঘটনায় করা মামলায় এক নারীকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

আপনার মতামত লিখুন