খুঁজুন
advertisement
advertisement
সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ৯ ভাদ্র, ১৪৩৩

সাব্বিরের ঝড়ে অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের টানা দ্বিতীয় জয়

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৪ আগস্ট ২০২৬, ৩:৫১ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
সাব্বিরের ঝড়ে অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের টানা দ্বিতীয় জয়

যোগফল প্রতিবেদক:

অস্ট্রেলিয়ায় চলমান টপএন্ড টি-টোয়েন্টিতে দুর্দান্ত জয় পেয়েছে বাংলাদেশ হাই পারফরম্যান্স (এইচপি) দল। সাব্বির রহমানের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে হোবার্ট হারিকেন্স একাডেমিকে ৩ উইকেটে হারিয়ে টুর্নামেন্টে টানা দ্বিতীয় জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ।

ডারউইনে টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ এইচপি। শুরুতেই প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলে বোলাররা। ইনিংসের প্রথম ওভারে জ্যাক ডোরানকে ফেরান আবু হায়দার রনি। পরের ওভারে নিভেথান রাধাকৃষ্ণণকে আউট করেন মোহাম্মদ রুবেল।

দুই উইকেট হারানোর পর ব্র্যাডলি হোপ ও টিগুই ওয়াইলি মিলে প্রতিরোধ গড়েন। তাদের জুটি থেকে আসে ৩৮ রান। ১৭ বলে ২২ রান করে হোপ ফিরলে দলের হাল ধরেন ওয়াইলি। একপ্রান্ত আগলে রেখে শেষ পর্যন্ত ৫৩ বলে চারটি চার ও তিনটি ছক্কায় ৭৮ রান করে অপরাজিত থাকেন তিনি।

ওয়াইলির ব্যাটে ভর করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৫৩ রান সংগ্রহ করে হোবার্ট হারিকেন্স একাডেমি।

বাংলাদেশ এইচপির হয়ে বল হাতে রুবেল নেন তিনটি উইকেট। রিপন মণ্ডল শিকার করেন দুটি। আর আবু হায়দার রনি ও আব্দুল গাফফার সাকলাইন নেন একটি করে উইকেট।

১৫৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই বিপদে পড়ে বাংলাদেশ। হাবিবুর রহমান সোহান ও আরিফুল ইসলাম দ্রুত ফিরে যান। এরপর জিসান আলম ও অধিনায়ক ইরফান শুক্কুরও বড় ইনিংস খেলতে পারেননি।

তবে চার নম্বরে ব্যাট করতে নেমে ম্যাচের চিত্র পাল্টে দেন সাব্বির রহমান। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে হোবার্টের বোলারদের ওপর চাপ তৈরি করেন তিনি। একের পর এক চার-ছক্কায় দ্রুত রান তুলতে থাকেন সাব্বির। মাত্র ৩৬ বলে পূর্ণ করেন অর্ধশতক।

তার ইনিংসে ছিল ছয়টি চার ও দুটি ছক্কা। শেষ পর্যন্ত ৪৫ বলে ৫৯ রান করে আউট হন সাব্বির। তার বিদায়ের আগেই বাংলাদেশ জয়ের ভিত শক্ত করে ফেলেছিল।

এরপর শামীম ২৪ বলে ১৬ ও এসএম মেহরব ১৪ বলে ১৩ রান করেন। শেষদিকে আব্দুল গাফফার সাকলাইনের ১৩ বলে ১৯ এবং আবু হায়দার রনির ৫ বলে অপরাজিত ৮ রানে রোমাঞ্চকর জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ এইচপি।

এই জয়ের মধ্য দিয়ে টপএন্ড টি-টোয়েন্টিতে টানা দ্বিতীয় জয় পেল বাংলাদেশ এইচপি। আর সাব্বির রহমানের দুর্দান্ত ব্যাটিং ফের একবার জাতীয় দলে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনার সুযোগ তৈরি করেছে।

সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

অবহেলিত মাতামুহুরী এখন অর্থনৈতিক সম্ভাবনার নতুন কেন্দ্র

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৪ আগস্ট ২০২৬, ৩:৩৪ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
অবহেলিত মাতামুহুরী এখন অর্থনৈতিক সম্ভাবনার নতুন কেন্দ্র

যোগফল প্রতিবেদক:

প্রকৃতি যেন তার সব সম্ভাবনা নিয়ে হাজির হয়েছে কক্সবাজারের নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলায়। একদিকে বিস্তীর্ণ লবণ মাঠ, অন্যদিকে নীল জলে বাগদা চিংড়ির চাষ। এর মাঝেই ধান ও সরিষার সবুজ-সোনালি ফসলের সমারোহ। নদী, উপকূল, কৃষি, মৎস্য ও লবণ—সব মিলিয়ে মাতামুহুরী হয়ে উঠতে পারে দেশের উপকূলীয় অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল।

চকরিয়া উপজেলা থেকে পৃথক হয়ে গড়ে ওঠা মাতামুহুরীর অর্থনীতির প্রধান ভিত্তি কৃষি, চিংড়ি ও মৎস্যচাষ, লবণ উৎপাদন এবং উপকূলীয় ব্যবসা। বিশেষ করে চিংড়ি চাষ দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলের মানুষের জীবিকা ও স্থানীয় অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এখানকার উৎপাদিত বাগদা চিংড়ি দেশের বিভিন্ন প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্রের মাধ্যমে বিদেশের বাজারেও যাচ্ছে।

জানা যায়, ষাটের দশকে জোয়ারের পানি নিয়ন্ত্রণে উপকূলীয় বেড়িবাঁধ নির্মাণের পর সত্তরের দশকে লোনাপানি আটকে চিংড়ি চাষ শুরু হয়। ১৯৭৬ সালে এ এলাকায় আধুনিক পদ্ধতিতে বাগদা চিংড়ি চাষের সূচনা হয়। পরে ১৯৭৮ সালে সরকারি জমি বন্দোবস্ত এবং ১৯৮২ সালে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে এ অঞ্চলে চিংড়ি চাষ আরও বিস্তৃত হয়।

বর্তমানে মাতামুহুরীর চিংড়ি দেশের বিভিন্ন প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্রের মাধ্যমে ইউরোপ ও আমেরিকার বাজারে রপ্তানি হচ্ছে। এর মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়েও কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে। একই সঙ্গে বিস্তীর্ণ লবণ মাঠ দেশের লবণের চাহিদা পূরণে ভূমিকা রাখছে। ফলে কৃষি ও মৎস্যের পাশাপাশি লবণ শিল্পও এ অঞ্চলের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি।

তবে সম্ভাবনার পাশাপাশি রয়েছে নানা চ্যালেঞ্জ। মাতামুহুরী নদী স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকার অন্যতম উৎস হলেও বর্ষায় পাহাড়ি ঢল, অতিবৃষ্টি ও নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় প্রায়ই বন্যা ও জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। নোনা পানি ঢুকে কৃষিজমির ফসল নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় চিংড়িঘের। এ উপজেলায় প্রায় ১৪ হাজার ১৫৮ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ হয়। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এসব কৃষিজমি ক্রমেই নানা ঝুঁকির মুখে পড়ছে।

চিংড়ি চাষেও রয়েছে একাধিক সমস্যা। উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, রোগবালাই ও মড়ক, বাজারদরের ওঠানামা, মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব এবং ঘেরের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন অনেক চাষি।

চিংড়িচাষি মোহাম্মদ আলাউদ্দিন বলেন, চিংড়ি চাষে মাতামুহুরীর সম্ভাবনা অনেক। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগের পাশাপাশি ঘেরের নিরাপত্তা নিয়েও আতঙ্কে থাকতে হয়। তার অভিযোগ, কখনো কখনো দুর্বৃত্তরা ঘেরে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়ে মাছ লুট করে নিয়ে যায়। এ অবস্থায় প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি চাষিদের নিরাপত্তা ও সহযোগিতা চান তিনি।

সাহারবিল ইউনিয়নের কৃষক বেলাল উদ্দিন বলেন, বর্ষায় জলাবদ্ধতা ও লবণাক্ততার কারণে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। নদীর বাঁধ সংস্কারের পাশাপাশি পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা করা গেলে কৃষকদের দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে।

চকরিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহানাজ ফেরদৌসী বলেন, কৃষকদের জলবায়ু-সহনশীল বীজ ও সার সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। পরিবর্তিত আবহাওয়ায় ফসল রক্ষায় মাঠপর্যায়ে প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় পরামর্শও দেওয়া হচ্ছে।

চকরিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আনোয়ারুল আমিন বলেন, মৎস্য ও চিংড়ি খাতে মাতামুহুরীর ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, প্রশিক্ষণ এবং কারিগরি সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে এ খাত আরও সমৃদ্ধ হবে।

বিসিক কক্সবাজার লবণ শিল্প উন্নয়ন কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক জাফর ইকবাল ভূঁইয়া জানান, চলতি লবণ মৌসুম শেষ হওয়ায় মাতামুহুরী উপজেলার লবণ উৎপাদনের তথ্য পৃথকভাবে সংরক্ষণ করা হয়নি। আগামী মৌসুম থেকে এ উপজেলার উৎপাদনের তথ্য আলাদাভাবে পাওয়া যাবে। তবে মাতামুহুরী পৃথক উপজেলা হওয়ার আগে পুরো চকরিয়া উপজেলায় ২০২৫-২৬ মৌসুমে মোট ১ লাখ ১৯ হাজার ৪০০ মেট্রিক টন লবণ উৎপাদিত হয়েছে।

দীর্ঘদিন চকরিয়া উপজেলার ওপর প্রশাসনিকভাবে নির্ভরশীল থাকার পর মাতামুহুরী পৃথক উপজেলা হওয়ায় স্থানীয় মানুষের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। সাত ইউনিয়নের প্রায় তিন লাখ মানুষের প্রত্যাশা, নতুন উপজেলা প্রতিষ্ঠার ফলে যোগাযোগ, অবকাঠামো, সরকারি সেবা ও বিনিয়োগে গতি আসবে।

সচেতন মহলের মতে, শুধু প্রশাসনিক মর্যাদা পেলেই মাতামুহুরীর কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন নিশ্চিত হবে না। কৃষি, মৎস্য ও লবণভিত্তিক অর্থনীতিকে টেকসই করতে প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত পরিকল্পনা। স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ, খাল পুনঃখনন, জলাবদ্ধতা নিরসনে আধুনিক পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং নদী-জলাশয় ব্যবস্থাপনায় কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

সঠিক পরিকল্পনা, সরকারি বিনিয়োগ ও প্রশাসনিক সহযোগিতা নিশ্চিত করা গেলে নদী, উপকূল, কৃষি ও মৎস্যসম্পদে সমৃদ্ধ মাতামুহুরী ভবিষ্যতে দেশের উপকূলীয় ব্লু ইকোনমির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে।

সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

মাছের উৎপাদন বাড়াতে হবে, মানের সঙ্গে আপস নয়: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৩ আগস্ট ২০২৬, ১১:০৬ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
মাছের উৎপাদন বাড়াতে হবে, মানের সঙ্গে আপস নয়: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী

যোগফল প্রতিবেদক:

দেশের মানুষের চাহিদা পূরণে মাছের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি উৎপাদিত মাছের গুণগত মান নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।

তিনি বলেন, উৎপাদন বাড়াতে গিয়ে কোনোভাবেই গুণগত মানের সঙ্গে আপস করা যাবে না। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের কৃষি ও মৎস্যপণ্যের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে গবেষক, বিজ্ঞানী ও উদ্যোক্তাদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

রোববার (২৩ আগস্ট) রাজধানীর বনানীর একটি হোটেলে ফিশটেক বিডি লিমিটেড আয়োজিত ‘অ্যাকুয়াকালচার নলেজ ডে-২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, দেশে বর্তমানে খাদ্য উৎপাদনে বড় ধরনের ঘাটতি নেই। তবে মানসম্মত ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন এখন বড় চ্যালেঞ্জ। কৃষিভিত্তিক পণ্য রপ্তানির মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে আরও এগিয়ে নিতে হলে গুণগত মানসম্পন্ন কৃষি ও মৎস্যপণ্য উৎপাদনের কোনো বিকল্প নেই।

তিনি বলেন, দেশের প্রায় ৭৫ শতাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির সঙ্গে যুক্ত। এই জনগোষ্ঠীকে অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী ও স্থিতিশীল করতে পারলে সামগ্রিক অর্থনীতিও আরও শক্তিশালী হবে। কৃষিতে উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্য হতে হবে একদিকে দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণ, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান সুদৃঢ় করা।

গবেষকদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, অ্যান্টিবায়োটিক ও ভ্যাকসিনের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে প্রাকৃতিক উপায়ে বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের বিষয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন। মানুষের জন্য নিরাপদ ও মানসম্পন্ন খাদ্য উৎপাদনে এমন কোনো পদ্ধতি গ্রহণ করা উচিত নয়, যা দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

পেস্টিসাইডের ব্যবহার নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, মাটি, পানি ও মানুষের জন্য ক্ষতিকর পেস্টিসাইডের ব্যবহার কমাতে সরকার কাজ করছে। মাটি ও পানিদূষণ কমানোর কোনো বিকল্প নেই।

তিনি জানান, দেশের মাটি ও পানিতে হেভি মেটালের উপস্থিতি উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। পানিতে লেড ও আর্সেনিকের মতো ক্ষতিকর উপাদান পাওয়ার পাশাপাশি চালেও হেভি মেটালের উপস্থিতির বিষয়টি সামনে এসেছে। এসব উপাদান মাটি, ভূগর্ভস্থ পানি, সার নাকি পেস্টিসাইড থেকে আসছে—তা চিহ্নিত করতে গবেষণা করা হচ্ছে।

ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার কমানোর ওপরও গুরুত্ব দেন মন্ত্রী। দেশের বিভিন্ন এলাকায় পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, নদীর মিঠাপানি সেচকাজে ব্যবহার করে ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন কমানো বা বন্ধ করা যায় কি না, তা নিয়ে ভাবতে হবে।

কৃষিবিষয়ে পড়াশোনা করা তরুণদের শুধু চাকরির পেছনে না ছুটে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, তরুণ উদ্যোক্তাদের সহায়তা করতে সরকার প্রস্তুত।

দেশি জাতের গবাদিপশুর সম্ভাবনা তুলে ধরে তিনি বলেন, ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল বিশ্বের অন্যতম ভালো জাত। এর উৎপাদনশীলতা ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা রয়েছে। দেশি জাতের এই সম্পদ সংরক্ষণ ও বিকাশে আরও গুরুত্ব দিতে হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন এবং মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনক। বাংলাদেশে নিযুক্ত নেদারল্যান্ডসের ডেপুটি হেড অব মিশন জন্না ভ্যান ডের লিন্ডেনও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

ফিশটেক বিডি লিমিটেডের চেয়ারম্যান খন্দকার ফরহাদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় ও মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, প্রান্তিক পর্যায়ের খামারি এবং ফিশটেকের কর্মকর্তারা অংশ নেন।

‘অ্যাকুয়াকালচার নলেজ ডে-২০২৬’ অনুষ্ঠানে আধুনিক মৎস্য প্রযুক্তি, পরিবেশবান্ধব চাষ পদ্ধতি, বাস্তুতন্ত্র সংরক্ষণ, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন ও জনসচেতনতা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন বিষয়ে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময় করা হয়।

সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

দক্ষ বাংলাদেশ গড়তে TVET-কে জাতীয় অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৩ আগস্ট ২০২৬, ১১:১৬ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
দক্ষ বাংলাদেশ গড়তে TVET-কে জাতীয় অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান

যোগফল প্রতিবেদক:

দক্ষ ও উৎপাদনশীল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণকে (TVET) জাতীয় অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন নীতিনির্ধারক, সরকারি কর্মকর্তা, শিল্পখাতের প্রতিনিধি ও কারিগরি শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা।

তারা বলেন, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষাকে বিকল্প বা গৌণ শিক্ষা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে TVET-কে শিক্ষাব্যবস্থার মূলধারায় নিয়ে আসতে হবে।

রোববার (২৩ আগস্ট) রাজধানীর সোবহানবাগের ড্যাফোডিল প্লাজায় ৭১ মিলনায়তনে আয়োজিত ‘দক্ষ ও উৎপাদনশীল বাংলাদেশের জন্য কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ বিষয়ক জাতীয় সংলাপ’-এ বক্তারা এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটস ফোরামের আয়োজনে এবং ড্যাফোডিল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ও সিসিএন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের যৌথ ব্যবস্থাপনায় এ সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. এ. এন. এম. এহসানুল হক মিলন। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (যুব ও কর্মসংস্থান বিষয়ক) সাইয়েদ বিন আব্দুল্লাহ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড্যাফোডিল গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা এবং বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ড. মো. সবুর খান।

সংলাপে বাংলাদেশ কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর, ASSET প্রকল্প, বিভিন্ন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এবং শিল্পখাতের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

জনমিতিক সুবিধাকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরের তাগিদ

বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের বিশাল তরুণ ও কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী দেশের জন্য বড় সম্ভাবনা। তবে শুধু কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা বেশি হলেই জনমিতিক লভ্যাংশ নিশ্চিত হবে না। শিল্পখাত এবং দেশ-বিদেশের শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে সমন্বিত জাতীয় কৌশল প্রয়োজন।

এ জন্য শিক্ষাব্যবস্থাকে কর্মসংস্থানযোগ্যতা, উৎপাদনশীলতা, উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে যুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেন তারা।

কারিগরি শিক্ষা নিয়ে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি বদলের আহ্বান

সংলাপে TVET প্রসারের অন্যতম বাধা হিসেবে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির বিষয়টি উঠে আসে। শ্রমবাজারে কারিগরি দক্ষতার চাহিদা থাকলেও অনেক শিক্ষার্থী ও অভিভাবক এখনো প্রচলিত বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষাকে বেশি মর্যাদাপূর্ণ মনে করেন।

কারিগরি পেশার সামাজিক মর্যাদা ও গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে জাতীয় পর্যায়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদারের আহ্বান জানান বক্তারা। পাশাপাশি সফল TVET গ্র্যাজুয়েট, দক্ষ টেকনিশিয়ান, পেশাজীবী ও উদ্যোক্তাদের সাফল্যের গল্প তুলে ধরে তরুণদের কারিগরি শিক্ষায় উৎসাহিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংযোগ বাড়ানোর তাগিদ

কারিগরি শিক্ষাকে শ্রমবাজারের উপযোগী করতে শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে কার্যকর অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন বক্তারা।

পাঠ্যক্রম প্রণয়ন, দক্ষতার মান নির্ধারণ, মূল্যায়ন ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণে নিয়োগকর্তাদের আরও সক্রিয়ভাবে যুক্ত করার পাশাপাশি শিক্ষানবিশি, ইন্টার্নশিপ ও কর্মক্ষেত্রভিত্তিক শিক্ষা বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়।

এ ছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, অটোমেশন, ডিজিটাল প্রযুক্তি ও আধুনিক উৎপাদন ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে TVET-এর পাঠ্যক্রম এবং শিক্ষক-প্রশিক্ষকদের দক্ষতা নিয়মিত হালনাগাদ করার আহ্বান জানানো হয়।

সনদ নয়, দক্ষতাকেই সাফল্যের মাপকাঠি করার আহ্বান

অংশগ্রহণকারীরা বলেন, শুধু সার্টিফিকেট বা ডিপ্লোমা অর্জনকে TVET ব্যবস্থার সাফল্যের মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। প্রশিক্ষণ শেষে শিক্ষার্থীরা অর্থবহ কর্মসংস্থান পাচ্ছেন কি না, কর্মক্ষেত্রে দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে পারছেন কি না, উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে উঠছেন কি না এবং আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে প্রতিযোগিতা করতে পারছেন কি না—এসব বিষয়ও বিবেচনায় নিতে হবে।

এ জন্য প্রশিক্ষণের মান নিশ্চিতকরণ, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সনদ এবং ব্যবহারিক দক্ষতার মূল্যায়ন জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

দক্ষ জনশক্তি রপ্তানিতে জোর

আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের সম্ভাবনার বিষয়টিও সংলাপে গুরুত্ব পায়। বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ থেকে বিপুলসংখ্যক কর্মী বিদেশে গেলেও তাদের একটি বড় অংশ তুলনামূলক কম দক্ষ ও কম আয়ের পেশায় কাজ করছেন।

শ্রম রপ্তানিকারক দেশ থেকে দক্ষ জনশক্তি রপ্তানিকারক দেশে পরিণত হতে বিদেশি ভাষা, যোগাযোগ দক্ষতা, কর্মক্ষেত্রের সংস্কৃতি এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত পেশাগত সনদ অর্জনের সুযোগ বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে যে দেশে কর্মী পাঠানো হবে, সেই দেশের শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী প্রশিক্ষণ দেওয়ার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।

সংলাপ থেকে TVET-কে জাতীয় শিক্ষাব্যবস্থার মূলধারায় প্রতিষ্ঠা, শিল্পের চাহিদা অনুযায়ী পাঠ্যক্রম আধুনিকীকরণ, শিক্ষানবিশি ও ইন্টার্নশিপের সুযোগ বৃদ্ধি, শিক্ষক-প্রশিক্ষকদের দক্ষতা উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক সনদের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং উচ্চ-মূল্যের বৈদেশিক কর্মসংস্থানের জন্য বিশেষায়িত দক্ষতা উন্নয়নের সুপারিশ উঠে আসে।

বক্তারা মনে করেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা গেলে বাংলাদেশের বিশাল কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে দক্ষ, কর্মসংস্থানযোগ্য এবং বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতায় সক্ষম জনশক্তিতে রূপান্তর করা সম্ভব হবে।

সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম