খুঁজুন
advertisement
advertisement
সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬ আশ্বিন, ১৪৩৩

জঘন্য অপরাধের ঘটনায় দ্রুততম সময়ে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮:২৩ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
জঘন্য অপরাধের ঘটনায় দ্রুততম সময়ে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
যোগফল প্রতিবেদন:

বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে প্রতিটি জঘন্য অপরাধ সংঘটিত হবার পর তা দ্রুততম সময়ে উদ্ঘাটন, অপরাধীদের গ্রেপ্তার ও প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। 

মন্ত্রী আজ দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে সমসাময়িক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিষয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন। 

মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে আমরা সকল জঘন্য অপরাধের ঘটনা দ্রুততম সময়ে উদ্ঘাটন করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পেরেছি। আর যেগুলো সময়সাপেক্ষ সেগুলো তদন্তের পরে দেখা যাবে যে কতটুকু অগ্রগতি আমরা করতে পেরেছি।

সম্প্রতি কুমিল্লায় সংঘটিত ১৩ বছর বয়সী কিশোর অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, নিখোঁজের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিহত কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করা হয় এবং পরবর্তী ১২ ঘণ্টার মধ্যে জড়িত চারজন সন্দেহভাজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ইতোমধ্যে আসামিরা অপরাধ স্বীকার করেছে। প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, অভিযুক্তরা কিশোর অপরাধ চক্রের সঙ্গে জড়িত এবং নিহত কিশোরের চেয়ে বয়সে ৫ থেকে ১০ বছরের বড়। তাদের কাছ থেকে নিহত কিশোরের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনসহ যাবতীয় আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের সময়োপযোগী তৎপরতার প্রশংসা করে তিনি বলেন, দ্রুততম সময়ে আইনি কার্যক্রম সম্পন্ন করে চার্জশিট দাখিল করা হবে। রামিসা হত্যাকাণ্ডের মতো এ ঘটনার বিচারও যেন সংক্ষিপ্ত সময়ে সম্পন্ন হয়, সে জন্য বিচার বিভাগকে সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করা হবে।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) শিশু নিখোঁজ সংক্রান্ত পরিসংখ্যান বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, সরকার এটিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে এবং তথ্য-উপাত্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখছে। সামাজিক অবক্ষয়কে অপরাধের মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রায় সব ক্ষেত্রে দেখা যায় সাইবার স্পেসে সংঘটিত অপরাধগুলোর পেছনে মাদক, জুয়া কিংবা পর্নোগ্রাফির মতো অনুষঙ্গ জড়িত। এ থেকে উত্তরণে এবং সামাজিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুল পর্যায় থেকে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, খেলাধুলা ও নৈতিক শিক্ষার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে, যাতে আমাদের যুবসমাজ সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যে বিকশিত হতে পারে। এ ছাড়া সমাজের সর্বস্তরের সচেতন নাগরিকদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করার আহ্বান জানান তিনি।

সম্প্রতি রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে রাতের আঁধারে ককটেল বিস্ফোরণ ও পার্কিং করা বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনার কড়া সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের তথাকথিত "লকডাউন" কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে এ অপতৎপরতা চালানো হয়েছে। ককটেলবাজির ঘটনায় মোটরসাইকেলসহ আসামিদের গ্রেপ্তার করে বর্তমানে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এমনকি হাইকোর্ট ফটক ও যাত্রাবাড়ীর ঘটনায় জড়িতদের ইতোমধ্যে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অন্যান্য ঘটনায় জড়িতদেরও শনাক্ত করার কাজ চলছে। মন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, জনগণ ও সরকার এসব অপতৎপরতায় মোটেও শঙ্কিত নয় এবং দেশবাসী ইতোমধ্যে এদের বর্জন ও প্রত্যাখ্যান করেছে।

বিরোধী দলের সাম্প্রতিক লংমার্চ  প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিতে যেকোনো রাজনৈতিক দলের গঠনমূলক সমালোচনা ও কর্মসূচি পালনের অধিকার রয়েছে। সম্প্রতি চট্টগ্রাম ও উত্তরাঞ্চলে বিরোধী দলের লংমার্চগুলো সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করেছে। রাজনীতিতে জনমতের মাধ্যমেই সবকিছুর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকারের প্রধান দায়িত্ব শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতি দূর করে যেকোনো অপরাধের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে মন্ত্রী আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং অতীতে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানে উদাসীনতাকে মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেন। তিনি বলেন, বিগত আমলের পুঞ্জীভূত সমস্যার কারণে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সাময়িক সংকট তৈরি হলেও বর্তমান সরকার দেশের নিজস্ব সম্পদ আহরণে মনোযোগ দিয়েছে। দেশের শিল্পখাতে গ্যাসের ধারাবাহিক সরবরাহ বজায় রাখতে ২০৩০-৩১ সালের মধ্যে নতুন ১৫০টি গ্যাসকূপ খননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের ২৮ নম্বর কূপ থেকে ইতোমধ্যে দৈনিক ১২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা হয়েছে। নিজস্ব প্রাকৃতিক সম্পদের ব্যবহারের মাধ্যমে বাংলাদেশ দ্রুতই গ্যাসে স্বয়ংসম্পূর্ণ হবে এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের স্থায়ী সমাধান মিলবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

রাজধানীর তেজগাঁওয়ের ঘটনা সম্পর্কে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, গত শুক্রবারে তেজগাঁওয়ের একটি মসজিদে নামাজ শেষে গোপন বৈঠকে বসলে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ২৩ জনকে আটক করা হয়। আটককৃতদের মোবাইল ফোন ফরেনসিক ও প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর যাদের বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি, সেই ১১ জনকে অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বাকিদের বিষয়ে পাওয়া তথ্যানুসারে তারা 'ইত্তেহাদুল উম্মাহ' নামে একটি নতুন উগ্রবাদী সংগঠন গড়ে তোলার চেষ্টা করছিল। যেকোনো ধরনের উগ্রবাদী তৎপরতার বিষয়ে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি পুনর্ব্যক্ত করে মন্ত্রী জানান, জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে রিমান্ডে আনা হয়েছে এবং আইনানুযায়ী তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

অনলাইন ডেস্ক

গিধুরিয়ায় কালভার্টের মুখে দেয়াল, পানি নিষ্কাশন বন্ধের অভিযোগ

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩:১৬ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
গিধুরিয়ায় কালভার্টের মুখে দেয়াল, পানি নিষ্কাশন বন্ধের অভিযোগ

ছবিতে বন্ধ কালভার্ট

 মো. সজিব । শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি:

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার রাজাবাড়ী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের গিধুরিয়া গ্রামে পানি নিষ্কাশনের জন্য নির্মিত কালভার্টের মুখে দেয়াল নির্মাণ ও কংক্রিট ঢালাই করে পানি চলাচল বন্ধ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে। এতে বর্ষা মৌসুমে দুই পাশের বিস্তীর্ণ কৃষিজমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় কৃষক ও এলাকাবাসী।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় ৩৫ শতাংশ জমির ওপর নির্মিত কালভার্টটি সরকারি পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার সঙ্গে সংযুক্ত। এর পশ্চিম পাশে প্রায় ১৫০ বিঘা এবং পূর্ব পাশে প্রায় ১ হাজার বিঘা কৃষিজমি রয়েছে। কালভার্টটি মূলত দুই পাশের পানি স্বাভাবিকভাবে চলাচল ও নিষ্কাশনের জন্য ব্যবহার হয়ে আসছিল।

তবে বর্তমানে পূর্ব পাশে দেয়াল নির্মাণ এবং কালভার্টের অংশে কংক্রিট ঢালাই করে পানি চলাচল বন্ধ করে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এতে বর্ষা মৌসুমে দুই পাশের পানি স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে না পারলে আশপাশের কৃষিজমি ও বসতবাড়িতে পানি জমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।

স্থানীয়রা প্রশ্ন তুলেছেন, জমিটি ব্যক্তিমালিকানাধীন হলেও যদি কালভার্টটি পানি নিষ্কাশনের উদ্দেশ্যে নির্মাণ করা হয়ে থাকে, তাহলে কালভার্টের মুখ বন্ধ করে দেওয়ার ফলে কৃষকদের পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা কীভাবে হবে?

এলাকাবাসীর অভিযোগ, কালভার্ট নির্মাণের কাজটি স্থানীয় বিএনপি নেতা খোরশেদের ঠিকাদারি/কাজের সংশ্লিষ্টতার মাধ্যমে করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে খোরশেদের সঙ্গে কথা বলা হলে তিনি জানান, পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে।

তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন, কালভার্টের বাউন্ডারি দেওয়ার পর পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করার কথা বলা হচ্ছে কেন? পানি চলাচল স্বাভাবিক রাখার প্রয়োজন থাকলে নির্মাণকাজের সময়ই এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া যেত বলে দাবি তাদের।

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, জমিটি কসমো গ্রুপের মালিক জহির কিনেছেন। জমি কেনার পর সেখানে স্থাপনা বা সীমানা নির্মাণের ক্ষেত্রে পানি নিষ্কাশনের পথ যাতে বন্ধ না হয়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

এলাকাবাসীর আশঙ্কা, বর্ষা মৌসুমে দুই পাশের পানি চলাচলের পথ বন্ধ থাকলে কৃষিজমির পাশাপাশি আশপাশের বাড়িঘরেও পানি উঠে যেতে পারে। এতে কৃষক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের ব্যাপক দুর্ভোগের সৃষ্টি হতে পারে।

এ বিষয়ে রাজাবাড়ী ইউনিয়নের প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, স্থানীয় কোনো ব্যক্তি লিখিত অভিযোগ দিলে বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় কৃষক ও এলাকাবাসীর দাবি, বিষয়টি দ্রুত সরেজমিনে তদন্ত করে কালভার্টের পানি চলাচলের পথ উন্মুক্ত রাখা এবং স্বাভাবিক পানি নিষ্কাশন নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে জলবায়ু সহনশীলতা বাড়াতে মন্ত্রণালয়ের সাথে আইসিসিসিএডির সমঝোতা স্মারক সই

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮:১২ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে জলবায়ু সহনশীলতা বাড়াতে মন্ত্রণালয়ের সাথে আইসিসিসিএডির সমঝোতা স্মারক সই

আইসিসিসিএডির সমঝোতা স্মারক হস্তান্তর


যোগফল প্রতিবেদন:

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলা, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক জলবায়ু অর্থায়নের সুযোগ কাজে লাগাতে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইসিসিসিএডি)-এর মধ্যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে।

আজ মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক সংস্থা ও সহযোগিতা অনুবিভাগের যুগ্মসচিব বেবী রাণী কর্মকার এবং আইসিসিসিএডি'র রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি অ্যাডভাইজার ড. ফজলে রাব্বি সাদেক আহমেদ নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো:  দেলোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ।  সচিব বলেন, সমঝোতা স্মারকটি যেন শুধু আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে। এর আওতায় গৃহীত কার্যক্রম বাস্তবায়নের মাধ্যমে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে কার্যকর অবদান রাখতে হবে। মন্ত্রণালয় ও অধীনস্থ দপ্তর-অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তার সর্বোচ্চ সুবিধা নেওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।

সচিব বলেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও অর্থায়নের সুযোগ কাজে লাগানোর নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে। সমন্বিত প্রচেষ্টা ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে সমঝোতা স্মারকটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং এর অধীনস্থ অধিদপ্তর ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে সক্ষমতা বাড়াতে সহযোগিতা করবে আইসিসিসিএডি। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ডসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান থেকে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের জন্য প্রকল্প প্রণয়ন ও অর্থায়নের সুযোগ কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে সহযোগিতা করা হবে।

এ ছাড়া মন্ত্রণালয়ের নীতি, কর্মসূচি ও কার্যক্রমে জলবায়ু পরিবর্তন-সংক্রান্ত বিষয়গুলোকে মূলধারায় অন্তর্ভুক্ত করতে কারিগরি সহায়তা, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক ফোরাম ও পলিসি ডায়ালগে অংশগ্রহণ ও নেতৃত্ব জোরদারে সহযোগিতা করা হবে।

জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক জাতিসংঘের সম্মেলন (কপ)-এ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সহায়তাও দেবে আইসিসিসিএডি।

এসময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশনের মো: মীর হোসেন, মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব নীলুফা আক্তার, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো: খালেদ কনক, বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. মো: লতিফুল ইসলাম, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিকল্পনা ও মূল্যায়নকোষের চীফ ড: মো: হাবিবুর রহমান, আইসিসিসিডি'র ব্যবস্হাপনা পরিচালক সাকিব হক প্রমুখ। 

অনলাইন নিউজ

কেশবপুরে প্রেসক্লাব দখল ও সাংবাদিকদের ওপর হামলায় আহত ৩, বিতর্কিত কমিটি গঠন

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩:২৩ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
কেশবপুরে প্রেসক্লাব দখল ও সাংবাদিকদের ওপর হামলায় আহত ৩, বিতর্কিত কমিটি গঠন

ছবিতে আহতরা

মেহেদী হাসান রিপন । যোগফল প্রতিবেদন: 

যশোরের কেশবপুর প্রেসক্লাবে নির্বাচনকালীন প্রস্তুতি ভেস্তে দিতে হামলা, ভাঙচুর ও সাংবাদিকদের ওপর সন্ত্রাসী আক্রমণের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বিএনপির প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ওয়াজেদ আলী খান ডাবলু এবং তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে। রোববার সকালে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে তিন সাংবাদিক গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

ঘটনাস্থল সূত্রে জানা গেছে, আগামী ২৬ সেপ্টেম্বরের দ্বিবার্ষিক সাধারণ নির্বাচন উপলক্ষ্যে প্রেসক্লাবে দাপ্তরিক কাজ চলছিল। এ সময় সাবেক সভাপতি ডাবলুর নেতৃত্বে বহু বহিরাগত ভবনে ঢুকে বিশৃঙ্খলা ও ভাঙচুর চালায়। এতে দৈনিক লোকসমাজ-এর প্রতিনিধি জয়দেব চক্রবর্তী, দৈনিক কল্যাণ-এর প্রতিনিধি আবদুল্লাহ আল ফুয়াদ এবং দৈনিক সময়ের খবর-এর প্রতিনিধি জাহিদ হাসানসহ বেশ কয়েকজন রক্তাক্ত হন।

অভিযোগ রয়েছে, প্রেসক্লাব অবরুদ্ধ করে নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর হামলাকারীরা নিজেদের পছন্দের ৫১ সদস্যের একটি বিতর্কিত আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করে। নতুন এই কমিটিতে মাহাবুর রহমানকে আহ্বায়ক, হারুন-অর রশিদকে সদস্য সচিব এবং ওয়াজেদ আলী খান ডাবলুকে সদস্য করা হয়েছে। ক্লাবের সাবেক সভাপতি আশরাফউজ জামান অভিযোগ করেন, পরিকল্পিতভাবে 'মব' তৈরি করে পেশাদার সাংবাদিকদের আটকে রেখে ক্লাব দখলের মহড়া দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, ওয়াজেদ আলী খান ডাবলু হামলা চালানোর বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, "অবৈধভাবে দখল হয়ে থাকা প্রেসক্লাব উদ্ধার করা হয়েছে মাত্র।" তিনি পাল্টা অভিযোগ করেন, প্রতিপক্ষের হামলায় মাহাবুর রহমান সবুজ ও সাদেক হোসেন নামে তাঁদের দুই সদস্য আহত হয়ে যশোর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

সমস্যা সমাধানে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে কেশবপুর থানার কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ হাফিজুর রহমান জানান, সাংবাদিকদের দুই গ্রুপের উত্তেজনার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক পুলিশ পাঠানো হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং উভয় পক্ষকে নিয়ে গোলটেবিল বৈঠকের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অনলাইন ডেস্ক