বাউফলে বস্তাবন্দি মরদেহ, নিখোঁজ আলমের বলে সন্দেহ পরিবারের
ছবি সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক:
পটুয়াখালীর বাউফল পৌর শহরে খাল থেকে উদ্ধার হওয়া বস্তাবন্দি অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির মরদেহটি নিখোঁজ আলম গাজীর (৫৫) হতে পারে বলে সন্দেহ করছেন তার পরিবারের সদস্যরা। তবে এখনো মরদেহটির পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। পরিচয় শনাক্তে ডিএনএ পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) জুমার নামাজের পর বাউফল পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাংলাবাজার জামে মসজিদের ঘাটসংলগ্ন খাল থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
অন্যদিকে, গত বুধবার (২১ অক্টোবর) থেকে নিখোঁজ রয়েছেন বাউফল পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আলম গাজী। তার বাবার নাম মজিবুর রহমান গাজী এবং মায়ের নাম জুলেখা বেগম।
নিখোঁজ আলম গাজীর বড় ছেলে সাইফুল ইসলাম বলেন, উদ্ধার হওয়া মরদেহের পরনে থাকা লুঙ্গি ও গেঞ্জি তার বাবার পোশাকের মতো মনে হয়েছে। মরদেহটির হাত-পা বাঁধা ছিল। একটি বস্তার ভেতরে ২০ থেকে ২৫টি ইট রাখা হয়েছিল। বস্তার মুখ রশি দিয়ে বাঁধা ছিল এবং রশির আরেকটি অংশ মরদেহের কোমরের সঙ্গে বাঁধা ছিল।
সাইফুল ইসলাম আরও বলেন, মরদেহটি তার বাবার হতে পারে বলে সন্দেহ হওয়ায় তিনি ও তার মা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ তাদের জানিয়েছে, পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় মরদেহটি অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবে পটুয়াখালীতে দাফনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
আলম গাজীর প্রথম স্ত্রী পিয়ারা বেগমের অভিযোগ, প্রায় ৩৮ বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। তাদের এক ছেলে ও তিন মেয়ে রয়েছে। তবে আলম গাজী স্ত্রী-সন্তানদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন না। মাঝেমধ্যে তাদের কাছে আসতেন। তিনি মূলত তার ছোট স্ত্রীর সঙ্গে থাকতেন। ছোট স্ত্রী তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে দিতেন না বলেও অভিযোগ করেন পিয়ারা বেগম।
পিয়ারা বেগমের দাবি, তার স্বামীর সঙ্গে ছোট স্ত্রীর প্রায়ই ঝগড়াঝাঁটি হতো এবং তাকে মারধরও করা হতো। আলম গাজীর নিখোঁজ হওয়ার খবর জানার পর ছোট স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সন্তোষজনক উত্তর পাননি তিনি। এসব কারণে তার সন্দেহ আরও বেড়েছে। উদ্ধার হওয়া মরদেহটি তার স্বামীর হতে পারে এবং তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আলম গাজীর দ্বিতীয় স্ত্রী কমলা বেগম গলাচিপা উপজেলার পাতাবুনিয়া গ্রামে থাকেন। তাদের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। প্রায় ১৫ বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। তবে গত আট থেকে ১০ বছর ধরে তাদের মধ্যে যোগাযোগ ছিল না বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে, আলম গাজী তার ছোট স্ত্রী ফারজানা বেগমের সঙ্গে বাউফলের দাসপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, ফারজানা বেগমের কোনো সন্তান নেই।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বগা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের এক হিন্দু নারীকে ধর্মান্তরিত করে বিয়ে করেছিলেন আলম গাজী। পরে তার নাম রাখা হয় ফারজানা বেগম।
এ বিষয়ে বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘আলম গাজীর নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির মরদেহ পটুয়াখালীতে দাফনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য মৃত ব্যক্তির মাথার চুলসহ প্রয়োজনীয় আলামত সংরক্ষণ করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ডিএনএ পরীক্ষার পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে, উদ্ধার হওয়া মরদেহটি নিখোঁজ আলম গাজীর কি না। পরিচয় নিশ্চিত করতে পরীক্ষার ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।’
তুলি আক্তার/ অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

আপনার মতামত লিখুন