খুঁজুন
advertisement
advertisement
বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২ আশ্বিন, ১৪৩৩

ছোট্ট ডানায় প্রকৃতির রঙিন দূত ‘পাতি জহুর’ প্রজাপতি

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২:০৭ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
ছোট্ট ডানায় প্রকৃতির রঙিন দূত ‘পাতি জহুর’ প্রজাপতি

প্রকৃতির সৌন্দর্যকে আরও মোহনীয় করে তোলে রঙিন ডানার প্রজাপতি। ফুলে ফুলে উড়ে বেড়ানো এসব কোমল প্রাণী শুধু চোখ জুড়ানো সৌন্দর্যেরই প্রতীক নয়, জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায়ও পালন করে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। তেমনি পরিচিত একটি প্রজাতি হলো পাতি জহুর, যা সূর্যচঞ্চল নামেও পরিচিত।

পাতি জহুরের বৈজ্ঞানিক নাম পেলোপিডাস ম্যাথিয়াস (Pelopidas mathias)। এটি হেসপারিডি (স্কিপার) পরিবারের একটি ছোট আকৃতির প্রজাপতি। দ্রুতগতির উড়ান, ছোট্ট ডানার আকর্ষণীয় নকশা এবং জলপাই-বাদামি আভাযুক্ত রঙের কারণে সহজেই নজর কাড়ে এ প্রজাতি। পূর্ণবয়স্ক প্রজাপতির ডানার বিস্তার সাধারণত ৩২ থেকে ৩৮ মিলিমিটার। ডানায় ছড়িয়ে থাকে ছোট ছোট সাদা বা হলদেটে অর্ধস্বচ্ছ ছোপ, যা একে অন্য প্রজাতি থেকে আলাদা করে।

বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কা ও মিয়ানমারের বিভিন্ন অঞ্চলে এ প্রজাপতির দেখা মেলে। ধানক্ষেত, তৃণভূমি, ঝোপঝাড়, বনাঞ্চল, বাগান, পতিত জমি কিংবা নগর উদ্যান—প্রায় সব ধরনের পরিবেশেই এদের বিচরণ রয়েছে। মার্চ থেকে নভেম্বর পর্যন্ত এদের উপস্থিতি সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। বিশেষ করে সকাল ও বিকেলের দিকে এরা সবচেয়ে সক্রিয় থাকে।

পাতি জহুর ফুলের মধু পান করলেও ভেজা মাটি, স্যাঁতসেঁতে পাথর কিংবা পাখির বিষ্ঠা থেকে প্রয়োজনীয় খনিজ লবণ সংগ্রহ করে। মাঝে মধ্যেই পাতার ওপর ডানা আংশিক মেলে সূর্যের আলোয় বসে থাকতে দেখা যায় এ প্রজাপতিকে, যা প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে এক অনন্য দৃশ্য।

তবে এই প্রজাপতির আরেকটি পরিচয়ও রয়েছে। পূর্ণাঙ্গ প্রজাপতি পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর না হলেও এর শূককীট ধান, আখ, লেবুঘাস, উলুঘাসসহ বিভিন্ন ঘাসজাতীয় উদ্ভিদের পাতা খেয়ে ফসলের ক্ষতি করতে পারে। এ কারণে কৃষিবিজ্ঞানে এটি ধানের একটি পরিচিত ক্ষতিকর পোকা হিসেবে বিবেচিত হয় এবং অনেক সময় রাইস স্কিপার নামেও পরিচিত।

স্ত্রী পাতি জহুর সাধারণত ধান বা ঘাসজাতীয় গাছের পাতায় একটি করে ডিম পাড়ে। তিন থেকে চার দিনের মধ্যে ডিম ফুটে শূককীট বের হয়। পরে পাতাকে ভাঁজ করে নিজের আশ্রয় তৈরি করে কয়েক ধাপে খোলস বদলে পুত্তলিতে পরিণত হয়। প্রায় এক সপ্তাহ পর সেই পুত্তলি থেকে জন্ম নেয় নতুন একটি প্রজাপতি।

স্থানীয় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. জামাল হোসেন বলেন, প্রজাপতি শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্য বাড়ায় না, এটি একটি সুস্থ বাস্তুতন্ত্রেরও গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক। কোনো এলাকায় প্রজাপতির বৈচিত্র্য বেশি থাকলে সেখানে জীববৈচিত্র্যের পরিবেশও সমৃদ্ধ থাকে। তাই তাদের আবাসস্থল রক্ষা এবং শিক্ষার্থীদের প্রকৃতি সম্পর্কে সচেতন করে তোলা সময়ের দাবি।

অন্যদিকে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আব্দুল মতিন বলেন, পূর্ণাঙ্গ পাতি জহুর প্রজাপতি পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর নয়। তবে এর শূককীট ধানের পাতার ক্ষতি করতে পারে। তাই কৃষকদের নিয়মিত জমি পর্যবেক্ষণ করতে হবে এবং অপ্রয়োজনে কীটনাশক ব্যবহার না করে সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে উপকারী ও অপকারী পোকামাকড়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা উচিত।

প্রকৃতির রঙিন এই ছোট্ট দূত তাই একদিকে যেমন সৌন্দর্যের প্রতীক, অন্যদিকে কৃষির বাস্তবতায়ও বহন করে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। প্রকৃতির প্রতিটি প্রাণীর মতো পাতি জহুর সম্পর্কেও সঠিক জ্ঞান ও সচেতনতাই পারে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং টেকসই কৃষি ব্যবস্থাকে আরও সমৃদ্ধ করতে।

সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

কিশোরগঞ্জে বাড়ছে এইচআইভি শনাক্ত, ৮ মাসে আক্রান্ত ৮ জন

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪:২৬ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
কিশোরগঞ্জে বাড়ছে এইচআইভি শনাক্ত, ৮ মাসে আক্রান্ত ৮ জন

প্রতিকী ছবি

যোগফল প্রতিবেদন:

কিশোরগঞ্জে বাড়ছে এইচআইভি শনাক্তের সংখ্যা। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত জেলার ৮ জনের শরীরে এইচআইভি শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের সবাই পুরুষ এবং তাঁদের বয়স ২০ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে।

প্রান্তিক ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে এইচআইভি শনাক্তকরণে কাজ করা বেসরকারি সংস্থা বন্ধু ওয়েল ফেয়ার সোসাইটির এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৬ বছর ৮ মাসে কিশোরগঞ্জে অন্তত ১ হাজার ৫০০ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ২৫ জনের শরীরে এইচআইভি শনাক্ত করা হয়েছে। এর আগে ২০১০ সাল থেকে ২০২০ সালের আগপর্যন্ত জেলায় এইচআইভি শনাক্তের তথ্য পাওয়া যায়নি।

শনাক্ত হওয়া ২৫ জনের মধ্যে ২২ জন বন্ধু ওয়েল ফেয়ার সোসাইটির ভৈরব কার্যালয়ের আওতাধীন এবং ৩ জন কিশোরগঞ্জ কার্যালয়ের আওতাধীন এলাকার বাসিন্দা। চলতি বছরের ৮ জনের মধ্যে ভৈরব কার্যালয়ের আওতাধীন এলাকায় ৫ জন এবং কিশোরগঞ্জ কার্যালয়ের আওতাধীন এলাকায় ৩ জন শনাক্ত হয়েছেন।

সংস্থাটি জানায়, যাঁদের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে, তাঁদের বেশির ভাগই যানবাহনের চালক, হকার ও নেশায় আসক্ত ব্যক্তি। শনাক্ত হওয়া ব্যক্তিদের সরকারি ব্যবস্থাপনায় নির্ধারিত হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

বন্ধু ওয়েল ফেয়ার সোসাইটির ভৈরব কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, ২৫ জনের মধ্যে দুজন বর্তমানে চিকিৎসার বাইরে রয়েছেন। পরে জানা গেছে, তাঁরা প্রবাসে চলে গেছেন। অন্যরা অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল থেরাপি (এআরটি) নিচ্ছেন। এই চিকিৎসাপদ্ধতি এইচআইভি সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত হয়।

কিশোরগঞ্জের সিভিল সার্জন সাইদুর রহমান ১০ সেপ্টেম্বর দায়িত্ব নেওয়ার পর জেলার এইচআইভি শনাক্তের চিত্রকে উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, এ বিষয়ে কর্মসূচি ও পরীক্ষা বাড়ানো প্রয়োজন। প্রতিকারে করণীয় নিয়ে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করবেন তিনি।

ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা কিশোর কুমার ধর বলেন, বন্ধু ওয়েল ফেয়ার সোসাইটির প্রতিবেদনে তিনি স্বাক্ষর করেছেন এবং ওই প্রতিবেদন থেকেই কিশোরগঞ্জে এইচআইভি শনাক্তের তথ্য জানতে পেরেছেন। আতঙ্কিত না হয়ে সবাইকে ধর্মীয় অনুশাসন মেনে জীবনযাপনের পরামর্শ দেন তিনি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জাতীয় এইডস ও এসটিডি নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশে ১ হাজার ৮৯১ জন এইচআইভিতে সংক্রমিত হয়েছেন। একই সময়ে এইডসে মারা গেছেন ২১৯ জন।

যোগফল অনলাইন ডেস্ক । বার্তা বিভাগ

সাঁথিয়া প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের সঙ্গে নবাগত ইউএনও'র মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪:০০ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
সাঁথিয়া প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের সঙ্গে নবাগত ইউএনও'র মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

ছবিতে মতবিনিময় সভা

 সাঁথিয়া (পাবনা) প্রতিনিধি:

সাঁথিয়া প্রেসক্লাবের প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার সাংবাদিকদের সঙ্গে নবাগত  উপজেলা নির্বাহী অফিসার সেলিম আহমেদ এর  মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে  সাঁথিয়া উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ কনফারেন্স রুমে  এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। 

নবাগত ইউএনও  সেলিম আহম্মেদ জানান, গণমাধ্যম সমাজের দর্পণ বা আয়না। জনগণের সমস্যা ও প্রত্যাশা তুলে ধরতে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডকে এগিয়ে নিতে এবং স্থানীয় জনদুর্ভোগ লাঘবে প্রশাসন ও সাংবাদিকদের সমন্বিত উদ্যোগ জনগণের কল্যাণে কার্যকর অবদান রাখবে। তিনি একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও জনবান্ধব উপজেলা গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

মতবিনিময় সভা সাংবাদিকদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, সাঁথিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক বাংলার সাঁথিয়া প্রতিনিধি সহকারী অধ্যাপক  আব্দুল হাই, সেক্রেটারী ও বাংলাদেশ বুলেটিন এর প্রতিনিধি ফারুক হোসেন,  সাবেক সভাপতি দৈনিক  দিনকালের সাঁথিয়া প্রতিনিধি আলী আহসান মন্জু, দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রতিনিধি  সাবেক সভাপতি জয়নুল আবেদিন রানা, দৈনিক কালবেলার প্রতিনিধি সাবেক সভাপতি মানিক মিয়া রানা, দৈনিক সমকালের প্রতিনিধি সহ-সভাপতি জালাল উদ্দিন, আর টিভির উত্তর প্রতিনিধি ও আমার দেশ প্রতিনিধি  সহ সাধারণ সম্পাদক তাইজুল ইসলাম ও আরিফুল ইসলাম,  দৈনিক খোলা কাগজের প্রতিনিধি মনসুর আলম খোকন, দৈনিক আজকের  কাগজের  প্রতিনিধি ও দৈনিক ইত্তেফাকের প্রতিনিধি সাবেক সাধারণ সম্পাদক  আবুল কাশেম ও  উজ্জ্বল হোসেন,দৈনিক  ভোরের দর্পনের প্রতিনিধি  সাবেক সহসাধারণ সম্পাদক আসিক ইকবাল রাসেল,  দৈনিক আমাদের সময়ের প্রতিনিধি  সাহিত্য সম্পাদক আবু ইসহাক, দৈনিক জনতার প্রতিনিধি  কোষাধক্ষ্য আবু সামা, চ্যানেল এস টেলিভিশন এর পাবনা জেলা প্রতিনিধি এম.জে সুলভ, দৈনিক জনকণ্ঠের প্রতিনিধি লুৎফর রহমান উল্কা,  আনন্দ টিভির সাঁথিয়া প্রতিনিধি মনোয়ার পারভেজ মানিক,  দৈনিক গণকণ্ঠের প্রতিনিধি হুমায়ুন কবির, দৈনিক বাংলা খবর প্রতিদিনের প্রতিনিধি তোফাজ্জল হোসেন সহ আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

গাজীপুরে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে তালা, কাটাতার ভেঙে প্রবেশ করলেন এমপি, পেলেন না চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মী

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬:৫৯ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
গাজীপুরে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে তালা, কাটাতার ভেঙে প্রবেশ করলেন এমপি, পেলেন না চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মী

কাঁটাতারের বেড়া সরিয়ে ভেতরে প্রবেশ করছেন গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম বাচ্চু। ছবি যোগফল

মো: সজিব | শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি:

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র হঠাৎ পরিদর্শনে গিয়ে প্রধান ফটক তালাবদ্ধ অবস্থায় পান গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম বাচ্চু। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর কাঁটাতারের বেড়া সরিয়ে তালা ভেঙে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ভেতরে প্রবেশ করেন তিনি।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে গাজীপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।
এমপি রফিকুল ইসলাম বাচ্চু জানান, স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রবেশের সময় প্রধান ফটকে তালা ঝুলতে দেখেন। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও কেউ গেট খুলতে না আসায় একপর্যায়ে দেয়াল টপকে কাঁটাতারের বেড়া সরিয়ে ভেতরে প্রবেশ করেন তিনি।
ভেতরে গিয়ে কোনো চিকিৎসক, মেডিকেল অফিসার বা সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যকর্মীকে দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় পাননি বলে জানান তিনি। তবে চারজন স্বাস্থ্য সহকারীকে সেখানে বসে গল্প-আড্ডা দিতে দেখেছেন বলে দাবি করেন এমপি।
রফিকুল ইসলাম বাচ্চু বলেন, “হাসপাতালের গেট দেখে মনে হয়েছে, এই তালা কত বছর আগে লাগানো হয়েছে! তালাটিতে একেবারে মরিচা ধরে গেছে। অনেক সময় অপেক্ষা করে একপাশের দেয়াল টপকে কাঁটাতারের বেড়া সরিয়ে ভেতরে প্রবেশ করি। এখানে কোনো স্বাস্থ্যকর্মী নেই, চিকিৎসক নেই, মেডিকেল অফিসারও নেই। কয়েকজন কর্মচারী ভেতরে বসে গল্প-আড্ডায় মেতেছেন।”
তিনি আরও বলেন, “গাজীপুর ইউনিয়ন একটি প্রত্যন্ত অঞ্চল। এখানকার মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া অত্যন্ত জরুরি। উপজেলা শহর কিংবা জেলা শহরে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়াও তাদের জন্য কষ্টসাধ্য। বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে মহাপরিচালকের সঙ্গে কথা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
এ বিষয়ে ইউনিয়ন ফ্যামিলি প্ল্যানিং ইনস্পেক্টর হাসান আল মামুন বলেন, “স্বাস্থ্যকেন্দ্রের প্রধান ফটকের চাবি ভুলবশত বাড়িতে রেখে আসছি।”
অন্যদিকে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. আপেল মাহমুদ বলেন, “স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পাঁচটি পদের বিপরীতে বর্তমানে একজনও নেই। কয়েকজন মাঠকর্মী মাঠে যাওয়ার আগে সেখানে মিটিং করেন। হঠাৎ করে এমপি সেখানে যাওয়ার কারণে এমন পরিস্থিতি হয়েছে।”
স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হওয়ায় নিয়মিত কার্যক্রম ও জনবল সংকট নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে।

যোগফল অনলাইন নিউজ ডেস্ক