দ্রুত রিজিক বৃদ্ধির ৫ আমল
ছবি: সংগৃহীত
রিজিকের মালিক একমাত্র মহান আল্লাহ তাআলা। তিনি যাকে ইচ্ছা প্রাচুর্য দান করেন, আবার যাকে ইচ্ছা পরীক্ষা হিসেবে সীমিত রিজিক দেন। তবে পবিত্র কোরআন ও সহিহ হাদিসে এমন কিছু আমলের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যেগুলো নিয়মিত পালন করলে আল্লাহর রহমতে রিজিকে বরকত আসে এবং অভাব-অনটন দূর হওয়ার আশা করা যায়।
১. বেশি বেশি তওবা-ইস্তিগফার করা
তওবা ও ইস্তিগফার রিজিক বৃদ্ধির অন্যতম মাধ্যম। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর। নিশ্চয়ই তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল। তিনি তোমাদের ওপর প্রচুর বৃষ্টি বর্ষণ করবেন, ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিতে সমৃদ্ধ করবেন এবং বাগান ও নদী দান করবেন।’ (সুরা নুহ: ১০-১২)
হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি নিয়মিত ইস্তিগফার করবে, আল্লাহ তার সব সংকট থেকে উত্তরণের পথ করে দেবেন, দুশ্চিন্তা দূর করবেন এবং অকল্পনীয় উৎস থেকে তাকে রিজিক দান করবেন।’ (আবু দাউদ: ১৫১৮)
২. বিয়ে করা
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে যারা অবিবাহিত, তাদের বিয়ে করিয়ে দাও। তারা যদি অভাবগ্রস্ত হয়, আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদের সচ্ছল করে দেবেন।’ (সুরা নূর: ৩২)
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তিন শ্রেণির মানুষকে সাহায্য করা আল্লাহ নিজের দায়িত্ব হিসেবে নিয়েছেন। তাদের একজন হলো সেই ব্যক্তি, যে পবিত্র জীবনযাপনের উদ্দেশ্যে বিয়ে করতে চায়।’ (তিরমিজি: ১৬৫৫)
৩. আল্লাহর নিয়ামতের শোকর আদায়
আল্লাহর দেওয়া নিয়ামতের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলে রিজিকে বরকত বৃদ্ধি পায়। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যদি তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর, তবে আমি অবশ্যই তোমাদের আরও বাড়িয়ে দেব।’ (সুরা ইবরাহিম: ৭)
৪. আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা
আত্মীয়দের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখাও রিজিক বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি চায় তার রিজিক প্রশস্ত হোক এবং আয়ু বৃদ্ধি পাক, সে যেন আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখে।’ (বুখারি ও মুসলিম)
৫. দান-সদকা ও আল্লাহর পথে ব্যয়
আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য দান-সদকা করলে রিজিকে বরকত আসে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরা আল্লাহর পথে যা কিছু ব্যয় কর, তিনি তার উত্তম প্রতিদান দেবেন। তিনিই সর্বোত্তম রিজিকদাতা।’ (সুরা সাবা: ৩৯)
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘প্রতিদিন সকালে দুইজন ফেরেশতা অবতরণ করেন। একজন দানকারীর জন্য কল্যাণের দোয়া করেন, আর অন্যজন কৃপণের ধ্বংস কামনা করেন।’ (বুখারি ও মুসলিম)
ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী, এসব আমল শুধু সম্পদ বৃদ্ধির উপায় নয়; বরং জীবনে বরকত, মানসিক প্রশান্তি এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভেরও গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।
সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

আপনার মতামত লিখুন