যশোর শিক্ষা বোর্ডে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ৬৬ দশমিক ২৭ শতাংশ। তবে ফলাফলে বড় ধাক্কা এসেছে মানবিক বিভাগে। এ বিভাগে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি হলেও পাসের হার নেমে এসেছে ৪৮ দশমিক ৮২ শতাংশে। একই সঙ্গে বোর্ডের ১১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থীই এবার পাস করতে পারেনি।
সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল ১০টায় সারাদেশের সঙ্গে একযোগে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। পরে যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের সভাকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ফলাফলের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন বোর্ডের সচিব (প্রেষণে) প্রফেসর ড. মো. আব্দুল মতিন।
বোর্ড সূত্রে জানা যায়, এবার যশোর শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ১ লাখ ৪১ হাজার ৬৪ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে ছাত্র ৬৯ হাজার ৮৫ জন এবং ছাত্রী ৭১ হাজার ৯৭৯ জন। ফলাফলে পাসের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে ছাত্রীদের ফলাফল তুলনামূলক ভালো হয়েছে।
বিভাগভিত্তিক ফলাফলে সবচেয়ে ভালো করেছে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা। এ বিভাগে পাসের হার ৮১ দশমিক ২৩ শতাংশ। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে পাসের হার ৬৪ দশমিক ২৮ শতাংশ।
অন্যদিকে মানবিক বিভাগের ফলাফল সবচেয়ে হতাশাজনক। এ বিভাগে মোট ৮৫ হাজার ২৩৮ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। তাদের মধ্যে পাসের হার মাত্র ৪৮ দশমিক ৮২ শতাংশ।
যশোর শিক্ষা বোর্ডের অধীনে খুলনা বিভাগের ১০ জেলার আড়াই হাজারের বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে ৩৬টি প্রতিষ্ঠানের শতভাগ পরীক্ষার্থী পাস করেছে। বিপরীতে ১১টি প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হতে পারেনি।
শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে শিক্ষা বোর্ড। বোর্ডের সচিব প্রফেসর ড. মো. আব্দুল মতিন বলেন, শূন্য পাস করা ১১টি প্রতিষ্ঠানকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হবে। তদন্তে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের একাডেমিক দুর্বলতা কিংবা শিক্ষকদের গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি বাতিলের বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে।
ফলাফল বিশ্লেষণে বোর্ড সচিব বলেন, বিজ্ঞান বিভাগে পাসের হার ৮১ দশমিক ২৩ শতাংশ হলেও মানবিক বিভাগে তা ৪৮ দশমিক ৮২ শতাংশ হওয়া উদ্বেগের বিষয়। বিভাগগুলোর ফলাফলের এই বৈষম্য কমাতে শিক্ষার গুণগত মান বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, এবারের ফলাফলেও ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রীরা ভালো করেছে। খাতা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা বজায় রেখে নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করা হয়েছে। শিক্ষার্থীর সংখ্যা নয়, শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করাই বোর্ডের মূল লক্ষ্য।
এবার যশোর শিক্ষা বোর্ড থেকে ১১ হাজার ৪৭৮ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ হলেও যশোর বোর্ডে পাসের হার ৬৬ দশমিক ২৭ শতাংশ। ফলে জাতীয় গড়ের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে এ বোর্ড।
ফলাফলে অসন্তুষ্ট শিক্ষার্থীদের খাতা পুনঃনিরীক্ষণের সুযোগ রয়েছে। বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী টেলিটক মোবাইলের মাধ্যমে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করা যাবে।
সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম
আপনার মতামত লিখুন