খুঁজুন
advertisement
advertisement
শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২৮ ভাদ্র, ১৪৩৩

ঘুমের মধ্যে হঠাৎ পড়ে যাওয়ার অনুভূতি কেন হয়? জানুন চিকিৎসাবিজ্ঞানের ব্যাখ্যা

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬:৫১ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
ঘুমের মধ্যে হঠাৎ পড়ে যাওয়ার অনুভূতি কেন হয়? জানুন চিকিৎসাবিজ্ঞানের ব্যাখ্যা

গভীর ঘুমের মধ্যে হঠাৎ মনে হলো যেন উঁচু কোনো জায়গা থেকে নিচে পড়ে যাচ্ছেন। আতঙ্কে শরীর ঝাঁকুনি দিয়ে ঘুম ভেঙে গেল। এমন অভিজ্ঞতা অনেকেরই হয়েছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এই অস্বাভাবিক অনুভূতিকে বলা হয় ‘হিপনিক জার্ক’ (Hypnic Jerk)।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি মূলত ঘুমের শুরুতে মাংসপেশীর আকস্মিক ও অনিচ্ছাকৃত সংকোচন। সাধারণত জেগে থাকা অবস্থা থেকে ঘুমে প্রবেশের প্রথম বা দ্বিতীয় ধাপে এই ঝাঁকুনি দেখা দেয়। স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞদের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি ১০ জনের মধ্যে অন্তত সাতজন জীবনের কোনো না কোনো সময়ে এই অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন।

ঘুমের প্রথম পর্যায়ে শরীর ধীরে ধীরে শিথিল হতে শুরু করে। এ সময় হৃদস্পন্দন, শ্বাস-প্রশ্বাস ও শরীরের তাপমাত্রা কমতে থাকে। শরীর ও মস্তিষ্কের এই পরিবর্তনের মুহূর্তে সাময়িক অসামঞ্জস্য তৈরি হলে হিপনিক জার্ক হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, চরম ক্লান্তি, দীর্ঘদিনের ঘুমের ঘাটতি, অতিরিক্ত মানসিক চাপ, উদ্বেগ, বেশি কফি পান, ধূমপান এবং অস্বস্তিকর ভঙ্গিতে ঘুমানোর কারণে এই সমস্যা আরও বেশি দেখা দিতে পারে।

হিপনিক জার্কের সময় অনেকেই হঠাৎ উঁচু জায়গা থেকে পড়ে যাওয়ার অনুভূতি পান। কারও কারও শরীরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার মতো ঝাঁকুনি লাগে, আবার কেউ পড়ে যাওয়ার মতো স্বপ্ন দেখে ঘুম ভেঙে ওঠেন। অনেকের বুক ধড়ফড় করা বা ঘাম হওয়ার মতো উপসর্গও দেখা দিতে পারে।

চিকিৎসকদের মতে, হিপনিক জার্ক সাধারণত কোনো গুরুতর রোগের লক্ষণ নয় এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই চিকিৎসার প্রয়োজন পড়ে না। তবে যদি ঘন ঘন এমন ঝাঁকুনি হয় বা এর সঙ্গে খিঁচুনি, মুখে ফেনা, ঘুমের মধ্যে প্রস্রাব হয়ে যাওয়া কিংবা শরীর অস্বাভাবিক শক্ত হয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়, তাহলে দ্রুত স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ এসব লক্ষণ মৃগীরোগ বা অন্যান্য স্নায়বিক সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুম, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ, অতিরিক্ত ক্যাফেইন ও নিকোটিন এড়িয়ে চলা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন হিপনিক জার্কের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে।

সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

কর দেন, ভোটও দেন—তবু নাগরিক সেবাবঞ্চিত যশোর সিটি কলেজপাড়াবাসী

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯:৩৮ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
কর দেন, ভোটও দেন—তবু নাগরিক সেবাবঞ্চিত যশোর সিটি কলেজপাড়াবাসী

ছবি : যোগফল প্রতিবেদক

মেহেদী হাসান রিপন | যশোর প্রতিবেদক

নিয়মিত পৌরকর ও ভ্যাট পরিশোধ করেন, নির্বাচনে ভোটও দেন। কিন্তু নাগরিক হিসেবে প্রাপ্য মৌলিক সেবা মিলছে না—এমন অভিযোগ উঠেছে যশোর শহরের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সিটি কলেজপাড়ার বাসিন্দাদের।

দীর্ঘদিনের নাগরিক দুর্ভোগের প্রতিবাদে ব্যতিক্রমী কর্মসূচি হিসেবে শুক্রবার সকালে এলাকার বিভিন্ন মোড়ে ক্ষোভ ও দাবি সংবলিত ব্যানার টানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

ব্যানারে লেখা হয়েছে— “আমি ভাঙাচোরা রাস্তা, লাইট, ড্রেন ও ডাস্টবিনবিহীন ১ নম্বর ওয়ার্ডের সিটি কলেজপাড়াবাসী বলছি...”। 
পাশাপাশি প্রশ্ন তোলা হয়েছে, “আমরা পৌরকর, ভ্যাট সবই পরিশোধ করি। তাহলে আমরা কেন পৌরসেবা থেকে বঞ্চিত? আমরা ভোটও প্রদান করি, তাহলে কেন আমরা অবহেলিত?”

স্থানীয়দের অভিযোগ, সামান্য বৃষ্টি হলেই সিটি কলেজপাড়ার বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। অনেক জায়গায় রাস্তার পিচ উঠে গিয়ে তৈরি হয়েছে খানাখন্দ। কোথাও আবার উঁচু-নিচু ইটের সলিংয়ের কারণে চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে পথচারী ও যানবাহন চালকদের।

শুধু সড়ক নয়, সড়কবাতি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনাতেও রয়েছে নানা সমস্যা। বাসিন্দাদের দাবি, পর্যাপ্ত সড়কবাতি না থাকায় সন্ধ্যার পর পুরো এলাকায় অন্ধকার নেমে আসে। এতে সাধারণ মানুষের চলাচলে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হচ্ছে।

অন্যদিকে, নির্দিষ্ট ডাস্টবিন না থাকায় বিভিন্ন স্থানে খোলা জায়গায় আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। এতে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি দুর্গন্ধ ও জনস্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

বাসিন্দারা জানান, এসব সমস্যা সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানানো হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। দীর্ঘদিনের দুর্ভোগে ক্ষুব্ধ হয়ে তারা এবার ব্যানার টানিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত রাস্তা সংস্কার, কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা, পর্যাপ্ত সড়কবাতি এবং নির্দিষ্ট স্থানে ডাস্টবিন স্থাপনের মাধ্যমে নাগরিক দুর্ভোগ নিরসন করতে হবে।

তাদের অভিযোগ, নিয়মিত কর পরিশোধ ও ভোট দেওয়ার পরও যদি মৌলিক নাগরিক সেবা না মেলে, তাহলে প্রশ্ন থেকেই যায়—নাগরিকদের দায়বদ্ধতা থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়বদ্ধতা কোথায়?

দ্রুত এসব সমস্যার সমাধান না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সিটি কলেজপাড়ার বাসিন্দারা।

যোগফল অনলাইন ডেস্ক 

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকরা চার দিনে তুলেছেন ১,৪৩১ কোটি টাকা

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮:৫৯ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকরা চার দিনে তুলেছেন ১,৪৩১ কোটি টাকা

যোগফল প্রতিবেদক:

পাঁচ ব্যাংক একীভূত হয়ে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীরা গত চার দিনে ১ হাজার ৪৩১ কোটি টাকা উত্তোলন করেছেন। এ সময়ে ৩৬ হাজারের বেশি গ্রাহক ব্যাংকটির বিভিন্ন শাখা থেকে টাকা তুলেছেন বলে জানিয়েছেন ব্যাংকটির এক কর্মকর্তা।

সোমবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত চার দিনে এসব টাকা উত্তোলন করা হয়। ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, গ্রাহকরা টাকা উত্তোলনের জন্য যতটা আগ্রহ দেখিয়েছেন, আবেদনের তুলনায় প্রকৃত উত্তোলনের পরিমাণ তার চেয়ে কম।

ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, প্রথম দিনের তুলনায় দ্বিতীয় দিনে ৭৭ কোটি টাকা বেশি উত্তোলন করেন গ্রাহকরা। তৃতীয় দিনেও দ্বিতীয় দিনের চেয়ে বেশি টাকা উত্তোলন করা হয়। তবে তৃতীয় দিনের তুলনায় চতুর্থ দিনে উত্তোলনের পরিমাণ কিছুটা কমেছে।

এদিকে, অনেক গ্রাহক টাকা উত্তোলনের পাশাপাশি ব্যাংকে নতুন করে অর্থ জমাও রাখছেন বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। তাদের ভাষ্য, গত চার দিনে টাকা উত্তোলনের জন্য বিভিন্ন শাখায় আসা গ্রাহকদের কেউ পুরো আমানত তুলে নিয়েছেন, আবার কেউ টাকা উত্তোলনের পর তা পুনরায় ব্যাংকেই জমা রেখেছেন।

গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে আমানতের টাকা ফেরত পাওয়ার জন্য আবেদন গ্রহণ শুরু হয়। এরপর ৭ সেপ্টেম্বর থেকে গ্রাহকদের টাকা দেওয়া শুরু করা হয়েছে। এখনো আবেদন গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

গ্রাহকদের দীর্ঘদিনের আমানত ফেরত দেওয়া এবং ব্যাংকটির তারল্য সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ ব্যাংক ইতোমধ্যে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংককে ৫ হাজার কোটি টাকা বিশেষ ঋণ দিয়েছে।

একীভূত পাঁচ ব্যাংকের মোট শাখা রয়েছে ৭৬১টি। টাকা ফেরত পাওয়ার জন্য এসব ব্যাংকের গ্রাহকদের কাছ থেকে মোট ৭৪ হাজার ২২১টি আবেদন জমা পড়েছে। এসব আবেদনের বিপরীতে মোট ৩ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা ফেরত দেওয়ার দাবি রয়েছে।

ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও এক্সিম ব্যাংক একীভূত হয়ে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠিত হয়েছে। ব্যাংকটির পরিশোধিত মূলধন ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকার দিয়েছে ২০ হাজার কোটি টাকা।

তানজিলা / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম