পিনু হত্যা: পরকীয়ার অভিযোগে স্বামী গ্রেপ্তার, তদন্তে নতুন মোড়
রাজধানীতে দন্ত চিকিৎসক সারাহ রোকসানা পিনু হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রের দাবি, নিহতের স্বামী সোহেল রানার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই পরকীয়াসহ চারিত্রিক সমস্যার অভিযোগ ছিল। এসব নিয়ে দাম্পত্য কলহ চললেও সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে সংসার টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করেছিলেন পিনু। তদন্তসংশ্লিষ্টদের ধারণা, সেই বিরোধই শেষ পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডের পেছনের কারণ হতে পারে।
গত বৃহস্পতিবার নিজ বাসা থেকে শ্বাসরোধ করা অবস্থায় পিনুর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাস্থলে জানালার গ্রিল কাটা এবং ঘরের বিভিন্ন জিনিসপত্র এলোমেলো থাকায় শুরুতে এটি ডাকাতির পর হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হয়েছিল।
তবে তদন্তে নতুন মোড় আসে ফরেনসিক আলামত বিশ্লেষণের পর। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) জানায়, কাটা গ্রিলের ভেতরের অংশ ও বারান্দায় পাওয়া একটি জুতার ছাপ বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া সোহেল রানার জুতার সঙ্গে মিলে যায়। এরপর তাকে গ্রেপ্তার করলে তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া শুরু হয়।
তদন্তকারীদের ধারণা, হত্যাকাণ্ডকে ডাকাতির ঘটনা হিসেবে দেখাতে পরিকল্পিতভাবে আলামত সাজানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে ফরেনসিক পরীক্ষায় পাওয়া তথ্য সেই পরিকল্পনা ভেস্তে দেয়।
পুলিশ ও নিহতের স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, সোহেল রানার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে পরকীয়ায় জড়িত থাকার অভিযোগ ছিল। এ নিয়ে প্রায়ই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ হতো। স্বজনদের দাবি, পিনু একাধিকবার আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন যে স্বামী তাকে হত্যা করতে পারেন।
মামলার বাদী সারাহ সুলতানা পলি জানান, পিনু প্রায়ই ফোন করে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করতেন এবং বলতেন, তার কিছু হলে যেন স্বামীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এর আগে নির্যাতনের শিকার হয়ে তিনি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করেছিলেন বলে পরিবারের দাবি।
নিহতের বড় বোন পান্নার অভিযোগ, সোহেলের আচরণ ও পরকীয়ার বিষয়টি পরিবার আগে থেকেই জানত। তার দাবি, স্বামীর এসব কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করায় পিনু পরিকল্পিত হত্যার শিকার হয়েছেন।
এ ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দক্ষিণখান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হাবিবুর রহমান জানান, স্ত্রী হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করা হয়েছে। স্বজনদের দেওয়া অভিযোগসহ সব তথ্য গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও ঘটনার পূর্ণ রহস্য উদ্ঘাটনের আশা করছে পুলিশ।
সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

আপনার মতামত লিখুন