হামের চিকিৎসা ব্যয়ে ঋণের ফাঁদে ১০ পরিবারের ৯টি
বাংলাদেশে হামের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব শুধু জনস্বাস্থ্যের জন্যই নয়, হাজারো পরিবারের জন্যও বড় আর্থিক সংকট তৈরি করেছে। আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থাগুলোর এক যৌথ জরিপে দেখা গেছে, হামে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা ব্যয় বহন করতে গিয়ে প্রতি ১০টি পরিবারের মধ্যে ৯টিই ঋণ নিতে বাধ্য হয়েছে।
বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে প্রকাশিত এ জরিপ পরিচালনা করেছে ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব রেড ক্রস অ্যান্ড রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিজ (আইএফআরসি) এবং বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই প্রাদুর্ভাবে এখন পর্যন্ত অন্তত ৮৪৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ১ লাখ ১২ হাজারের বেশি মানুষ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।
জরিপে ১২টি সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা নিতে আসা ২ হাজার ৭৪৬টি পরিবারের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। এতে দেখা যায়, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা বিনামূল্যে হলেও ওষুধ, যাতায়াত, খাবার ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয় পরিবারগুলোর জন্য বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জরিপ অনুযায়ী, ৩৫ শতাংশ পরিবারের ওষুধ কেনার জন্য অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তার প্রয়োজন হয়েছে। এছাড়া ২২ শতাংশ পরিবার খাদ্য সহায়তার প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছে। আক্রান্ত পরিবারের অধিকাংশই নিম্ন আয়ের, যাদের মাসিক আয় প্রায় ৬ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকার মধ্যে।
মূল্যায়নে আরও দেখা গেছে, একটি পরিবার গড়ে চিকিৎসা ও সংশ্লিষ্ট খাতে প্রায় ১৬ হাজার টাকা ব্যয় করেছে। অনেক ক্ষেত্রে এই ব্যয় আরও বেশি হয়েছে। জরিপে অংশ নেওয়া হাজেরা খাতুন জানান, গ্রামের বাড়ি থেকে ঢাকায় সন্তানকে হাসপাতালে আনতে শুধু অ্যাম্বুলেন্স ভাড়াতেই তার ২৪ হাজার টাকার বেশি খরচ হয়েছে।
এছাড়া অনেক অভিভাবক জানিয়েছেন, অসুস্থ সন্তানের পাশে হাসপাতালে দীর্ঘদিন থাকতে গিয়ে তারা কাজ বা চাকরি হারিয়েছেন, ফলে পরিবারের আয়ও কমে গেছে।
ঢাকায় আইএফআরসির প্রধান আলবার্তো বোকানেগ্রা বলেন, হামের প্রভাব শুধু স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এটি বহু পরিবারকে মারাত্মক অর্থনৈতিক সংকটেও ফেলছে। তাই জনস্বাস্থ্য সংকট মোকাবিলায় মানবিক সহায়তা ও শক্তিশালী সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি একসঙ্গে প্রয়োজন।
বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মহাসচিব কবির এম. আশরাফ আলম বলেন, জরিপে স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে যে, হামে আক্রান্ত পরিবারগুলো একদিকে স্বাস্থ্যঝুঁকি, অন্যদিকে তীব্র আর্থিক চাপ—দুই সংকটই একসঙ্গে মোকাবিলা করছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ, যা হাঁচি-কাশির মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এর নির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা নেই; টিকাদানই এ রোগ প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়। এ পরিস্থিতিতে প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে দেশজুড়ে গণটিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা হয়েছে।
সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

আপনার মতামত লিখুন