যাদুকাটা নদীর ঘাটে টোল আদায় নিয়ে স্থানীয়দের ক্ষোভ
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার যাদুকাটা নদীর পাঠানপাড়া-মিয়ারচর খেয়াঘাটে মালামাল পারাপারে অতিরিক্ত টোল আদায় ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এর প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী, শ্রমিক ও ভুক্তভোগীরা।
সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের বাদাঘাট বাজারে বণিক সমিতি, ভুক্তভোগী জনগণ ও শ্রমিকদের উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাজারের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, যাদুকাটা নদীর পাঠানপাড়া-মিয়ারচর খেয়াঘাট দিয়ে মালামাল পারাপারের সময় নির্ধারিত হারের চেয়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে। একই ঘাটে জেলা পরিষদ ও দেবোত্তর স্টেটের নামে পৃথকভাবে টোল নেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা। এতে ব্যবসায়ী, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষকে অতিরিক্ত অর্থ গুনতে হচ্ছে।
তাদের দাবি, প্রায় এক মাস ধরে এ পরিস্থিতি চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। দ্রুত অতিরিক্ত টোল আদায় বন্ধ এবং ঘাটের টোল আদায়ের বৈধতা নির্ধারণের দাবি জানান তারা। অন্যথায় আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন মানববন্ধনকারীরা।
মানববন্ধন শেষে ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের একটি প্রতিনিধি দল মিয়ারচর খেয়াঘাটে গিয়ে ঘাট পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুই পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেন। এ সময় সাবেক চেয়ারম্যান তারা মিয়া উপস্থিত হয়ে উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনেন এবং বিষয়টি সাময়িকভাবে সমাধানের উদ্যোগ নেন।
আলোচনা শেষে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আপাতত তৃতীয় একটি পক্ষের মাধ্যমে ঘাটের টাকা আদায়ের বিষয়ে উভয় পক্ষ সম্মত হয়। একই সঙ্গে আগামী ১৫ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে প্রশাসনের মাধ্যমে ঘাটের বৈধতা ও টোল আদায়ের বিষয়টি নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এ সময় পর্যন্ত আদায় করা অর্থ জমা থাকবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে যাকে বৈধভাবে ঘাট পরিচালনা ও টোল আদায়ের দায়িত্ব দেওয়া হবে, পরবর্তীতে ওই অর্থ তার কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানানো হয়।
উভয় পক্ষ এ সিদ্ধান্তে সম্মতি দেওয়ায় আপাতত বিরোধের সমাধান হয়েছে। তবে ঘাটের টোল আদায়ের বৈধতা নির্ধারণ ও স্থায়ী সমাধানের জন্য দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ চান স্থানীয় ব্যবসায়ী, শ্রমিক ও ভুক্তভোগীরা।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন বাদাঘাট বাজার বণিক সমিতির সভাপতি নজরুল ইসলাম সিকদার, সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ, কোষাধ্যক্ষ মাওলানা মোখলেসুর রহমান, বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলাম ও আমির শাহ, উত্তর বড়দল ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি হেলু মিয়া, ব্যবসায়ী জুবায়ের আহমদ, সাজ্জাদ হোসেন এবং শ্রমিক রহম আলীসহ অনেকে।
সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

আপনার মতামত লিখুন