খুঁজুন
advertisement
advertisement
শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ, ১৪৩৩

ভয়ংকর সাপ ধরেন এই নারী, তবে বেশি ভয় পান পুরুষদের

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১৫ আগস্ট ২০২৬, ১:৪৮ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
ভয়ংকর সাপ ধরেন এই নারী, তবে বেশি ভয় পান পুরুষদের

অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডের সানশাইন কোস্টের ৪০ বছর বয়সী কোর্টনি ব্রাউন পেশায় একজন লাইসেন্সধারী সাপ ধরার কর্মী। বিশ্বের অন্যতম বিষধর সাপসহ বিভিন্ন প্রজাতির সরীসৃপ ধরে নিরাপদ পরিবেশে ছেড়ে দেওয়াই তার কাজ। তবে কোর্টনির কাছে সাপের চেয়েও বেশি ভয়ংকর অপরিচিত কিছু পুরুষের আচরণ।

লন্ডনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডেইলি স্টারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই সন্তানের মা কোর্টনি প্রায় তিন বছর ধরে পেশাগতভাবে সাপ ধরছেন। গরমের মৌসুমে দিনে তাকে প্রায় ১০টি পর্যন্ত সাপ ধরার ডাক সামলাতে হয়। বিষধর সাপের সামান্য অসতর্কতাতেই কামড়ের শিকার হওয়ার ঝুঁকি থাকলেও এ কাজকে তিনি ভয় পান না।

কোর্টনি জানান, অনেক সময় অপরিচিত মানুষের বাড়িতে তাকে একাই যেতে হয়। বেশিরভাগ মানুষ সহযোগিতা করলেও কিছু পুরুষ তাকে সন্দেহজনক বা নির্জন জায়গায় আসতে বলেন। ফলে প্রতিবার বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় নিজের নিরাপত্তার বিষয়টিও মাথায় রাখতে হয়।

এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের কাজের ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করার কারণে কটূক্তি, অশালীন মন্তব্য ও অনলাইন ট্রলের শিকার হতে হয়েছে বলেও জানান তিনি।

সাপ ধরার এই পেশায় আসার আগে করপোরেট চাকরি করতেন কোর্টনি। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করলেও সেই জীবন তাকে তৃপ্ত করতে পারেনি। ছোটবেলা থেকেই প্রাণী, বিশেষ করে সাপের প্রতি তার আলাদা আগ্রহ ছিল। অবসর সময়ে রাতে হাঁটতে বের হয়ে সাপ খোঁজা এবং স্থানীয় প্রজাতি সম্পর্কে জানার অভ্যাসও ছিল তার।

দুই মেয়ে বড় হওয়ার পর নতুন করে কর্মজীবনে ফেরার সুযোগ পান কোর্টনি। তখন শুধু অর্থ উপার্জনের জন্য নয়, অর্থবহ একটি কাজ করার সিদ্ধান্ত নেন। প্রশিক্ষণ নিয়ে শুরু করেন সাপ ধরার পেশা।

এই কাজের জন্য বিষধর সাপ ধরার বিশেষ প্রশিক্ষণের পাশাপাশি প্রাথমিক চিকিৎসা ও বিভিন্ন প্রজাতির সাপ শনাক্ত করার কোর্স করেন তিনি। প্রয়োজনীয় অনুমতিপত্র পাওয়ার পর শুরু করেন পেশাগতভাবে সাপ উদ্ধার।

কোর্টনির কাছে সবচেয়ে বেশি আসা ডাকগুলোর একটি কার্পেট পাইথন ধরার জন্য। আকারে বড় হওয়ায় এসব সাপ বাড়িতে ঢুকলে মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। তবে কার্পেট পাইথন বিষধর নয় এবং সাধারণত মানুষকে আক্রমণ করে না।

এর পাশাপাশি ইস্টার্ন ব্রাউন স্নেক ও রেড-বেলিড ব্ল্যাক স্নেকের মতো অত্যন্ত বিষধর সাপও ধরেন কোর্টনি। এসব সাপ দ্রুত চলাফেরা করায় উদ্ধারের সময় তাকে বাড়তি সতর্ক থাকতে হয়।

কোর্টনির মতে, সাপকে ঘিরে মানুষের মধ্যে অযথা ভয় কাজ করে। তার ভাষায়, সাপ সাধারণত আক্রমণাত্মক নয়; বিপদ অনুভব করলেই আত্মরক্ষার শেষ উপায় হিসেবে কামড় দেয়।

বিষধর সাপ ধরার সময় নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে বিশেষ হুক ব্যবহার করেন কোর্টনি। পরিস্থিতি অনুযায়ী সাপকে নিয়ন্ত্রণ করে নিরাপদ ব্যাগে ঢোকানো হয়। এ সময় সাপের নড়াচড়া ও আচরণ খুব সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করতে হয়।

এক মুহূর্তের অসতর্কতাই বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে। কয়েকবার অবিষধর সাপের কামড় খেলেও এতে আতঙ্কিত হননি কোর্টনি। কারণ সাধারণত কোন প্রজাতির সাপের সঙ্গে কাজ করছেন, তা আগে থেকেই শনাক্ত করতে পারেন তিনি।

উদ্ধারের পর সাপগুলোকে উপযুক্ত প্রাকৃতিক পরিবেশে ছেড়ে দেওয়া হয়। কোর্টনির দাবি, সঠিক পরিবেশে ছেড়ে দিলে একই সাপ আবার সেই বাড়িতে ফিরে আসার সম্ভাবনা খুবই কম।

গরমের মৌসুমে তার ব্যস্ততা বেড়ে যায়। দিনে প্রায় ১০টি পর্যন্ত সাপ উদ্ধারের ডাক আসে। একা কাজ করার কারণে একদিকে যেমন শারীরিক চাপ বাড়ে, অন্যদিকে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সাপটিকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার চাপও থাকে।

তবে এত ঝুঁকিপূর্ণ কাজের মধ্যেও কোর্টনির কাছে সাপই সবচেয়ে বড় ভয় নয়। তার মতে, অপরিচিত মানুষের আচরণ এবং অজানা জায়গায় একা যাওয়ার ঝুঁকিই এই পেশার সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়।

সাপকে শান্ত ও ভুল বোঝা প্রাণী হিসেবে দেখেন কোর্টনি। মানুষের মধ্যে সাপ নিয়ে অযথা ভয় কমিয়ে সচেতনতা তৈরি করাই তার কাজের অন্যতম উদ্দেশ্য। তার মতে, সবাইকে সাপ ভালোবাসতে হবে না, তবে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সাপের গুরুত্ব সম্পর্কে সঠিক ধারণা থাকা জরুরি।

সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

মেসিকে সান্ত্বনা দিয়ে রোনালদোর নতুন রেকর্ড

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১৫ আগস্ট ২০২৬, ৪:০৩ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
মেসিকে সান্ত্বনা দিয়ে রোনালদোর নতুন রেকর্ড

বিশ্ব ফুটবলের দুই মহাতারকা লিওনেল মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর প্রতিদ্বন্দ্বিতা বহুদিনের। মাঠের লড়াইয়ে তারা একে অন্যের বড় প্রতিপক্ষ হলেও ব্যক্তিগত জীবনের কঠিন সময়ে একে অপরের পাশে দাঁড়ানোর নজিরও রয়েছে। এবার মেসির বাবার মৃত্যুতে সমবেদনা জানিয়ে নতুন এক রেকর্ড গড়েছেন রোনালদো।

সম্প্রতি বাবা হোর্হে মেসিকে হারিয়েছেন আর্জেন্টাইন তারকা লিওনেল মেসি। বাবাকে নিয়ে নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে একটি আবেগঘন পোস্ট দেন তিনি। সেই পোস্টের মন্তব্যের ঘরে মেসি ও তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো।

রোনালদো লেখেন, ‘এই কঠিন সময়ে তোমার এবং তোমার পরিবারের জন্য রইল অনেক অনেক ভালোবাসা লিও। শক্ত থেকো।’

মেসির কঠিন সময়ে রোনালদোর এই মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলে। এরই মধ্যে মন্তব্যটিতে প্রায় ৬৫ লাখ লাইক পড়েছে। ইনস্টাগ্রামের ইতিহাসে কোনো কমেন্টে এটিই সর্বোচ্চ লাইক পাওয়ার রেকর্ড বলে জানা গেছে।

মজার বিষয় হলো, ইনস্টাগ্রামের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ লাইক পাওয়া কমেন্টটিও রোনালদোর। কিলিয়ান এমবাপ্পে রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেওয়ার পর তাকে অভিনন্দন জানিয়ে একটি পোস্টে মন্তব্য করেছিলেন সিআর সেভেন। ২০২৫ সালের শেষ দিকে সেই মন্তব্যে লাইক সংখ্যা ৬০ লাখ ছাড়িয়ে যায়।

ফুটবল মাঠে দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও ব্যক্তিগত জীবনের কঠিন সময়ে মেসির প্রতি রোনালদোর এই সহমর্মিতা দুই তারকার ভক্তদের মধ্যেও প্রশংসা কুড়িয়েছে।

এর আগে গত শনিবার (৮ আগস্ট) ৬৮ বছর বয়সে মারা যান লিওনেল মেসির বাবা ও দীর্ঘদিনের এজেন্ট হোর্হে মেসি। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর আর্জেন্টিনার রোজারিওতে নিজ জন্মভূমিতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

অক্টোবরে চালু হবে ৫ বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল: প্রধানমন্ত্রী

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১৫ আগস্ট ২০২৬, ৩:৫২ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
অক্টোবরে চালু হবে ৫ বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল: প্রধানমন্ত্রী

শিশুদের চিকিৎসাসেবা আরও সহজলভ্য করতে দেশের পাঁচ অঞ্চলে ২০০ শয্যাবিশিষ্ট বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল চালু করতে যাচ্ছে সরকার। আগামী অক্টোবর মাসে খুলনা, বরিশাল, রংপুর, রাজশাহী বিভাগ এবং কুমিল্লায় একযোগে এসব হাসপাতাল চালু করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শনিবার (১৫ আগস্ট) রাজধানীর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হাসপাতালের নবনির্মিত ৫০০ শয্যার ভবন উদ্বোধন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

এর আগে সকাল ১০টার দিকে প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে হাসপাতালের নতুন ভবনের উদ্বোধন করেন। এ সময় তিনি হাসপাতাল প্রাঙ্গণে একটি গাছের চারা রোপণ করেন। পরে মোনাজাতে অংশ নিয়ে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে উদ্বোধনী আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনসহ স্বাস্থ্য খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আধুনিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্য শুধু নতুন ভবন নির্মাণ বা প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো নয়। উন্নত প্রযুক্তির পাশাপাশি দক্ষ জনবল, সুশাসন ও সময়োপযোগী নীতির সমন্বয়ে দেশের প্রতিটি মানুষের জন্য সহজলভ্য, সাশ্রয়ী ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য।

ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হাসপাতালের নতুন ৫০০ শয্যার ভবন উদ্বোধনকে সেই লক্ষ্য পূরণের পথে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, ২০০৬ সালের ২৩ অক্টোবর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মরহুম বেগম খালেদা জিয়া হাসপাতালটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। সময়ের চাহিদা অনুযায়ী আধুনিক সুযোগ-সুবিধা যুক্ত করে হাসপাতালটির পরিসর আরও বাড়ানো হয়েছে। এ জন্য চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী, টেকনিশিয়ানসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

নিউরোলজিক্যাল বা স্নায়ুবিক রোগকে বর্তমান বিশ্বের অন্যতম বড় স্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্ট্রোক, মৃগীরোগ, পারকিনসন্স, ডিমেনশিয়া ও মেরুদণ্ডের জটিল রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। এসব রোগের জন্য দেশে আধুনিক ও বিশেষায়িত চিকিৎসার প্রয়োজনও দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

নতুন ৫০০ শয্যার ভবনের মাধ্যমে এসব রোগের চিকিৎসা সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। আধুনিক আইসিইউ, অপারেশন থিয়েটার, উন্নত ডায়াগনস্টিক সুবিধা ও বিশেষায়িত ওয়ার্ডের সমন্বয়ে নির্মিত ভবনটি রোগী সেবার পাশাপাশি চিকিৎসা গবেষণা ও উচ্চশিক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ যাতে তুলনামূলক কম খরচে বিশ্বমানের নিউরোচিকিৎসা পান, সেই লক্ষ্যেই ‘নিউরোসায়েন্স-২’ ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তি, অতিরিক্ত শয্যা এবং দক্ষ জনবলের সমন্বয়ে এ প্রতিষ্ঠান দেশের অসংখ্য রোগীর জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, স্বাস্থ্য খাতে প্রযুক্তির ব্যবহার যতই বাড়ুক, রোগীর প্রতি মানবিক আচরণের বিকল্প নেই। প্রযুক্তি রোগ শনাক্ত করতে পারে, কিন্তু একজন রোগীর ভয়, উদ্বেগ ও মানসিক কষ্ট বুঝে তাকে আশ্বস্ত করার কাজটি চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদেরই করতে হয়।

রোগীর কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা, তার মানসিক অবস্থা বোঝা এবং সম্মানজনক ও সহানুভূতিশীল আচরণ চিকিৎসাসেবার মান বাড়ায় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, চিকিৎসক, রোগী ও রোগীর স্বজন—এই তিন পক্ষের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা, সম্মান ও সহানুভূতির সম্পর্ক থাকা জরুরি। চিকিৎসকরা যদি নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন কিংবা রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে চিকিৎসকদের আস্থার সম্পর্ক দুর্বল হয়, তাহলে শুধু হাসপাতালের অবকাঠামোগত উন্নয়ন করে চিকিৎসার জন্য বিদেশমুখিতা বন্ধ করা সম্ভব হবে না।

সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

নেত্রকোনায় গোরস্থানের দখল নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ১২০

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১৫ আগস্ট ২০২৬, ২:২৬ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
নেত্রকোনায় গোরস্থানের দখল নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ১২০

নেত্রকোনার কলমাকান্দায় পুরোনো একটি গোরস্থানের আধিপত্য ও সেখানে দোকান নির্মাণকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ১২০ জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার সকালে রংছাতি ইউনিয়নের আমগড়া, পুলিয়া ও পানেশ্বর পাড়ায় প্রায় এক ঘণ্টা ধরে সংঘর্ষ চলে। এ সময় অর্ধশতাধিক বাড়িঘর ও দোকানপাটে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে।

পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আমগড়া এবং পুলিয়া-পানেশ্বর পাড়ার মধ্যবর্তী প্রায় ১৮ কাঠা বা ১৪৪ শতাংশ জমির পুরোনো একটি গোরস্থান নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের বিরোধ চলে আসছে। সম্প্রতি আমগড়া গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা গোরস্থানের রাস্তার পাশে দোকান নির্মাণ করে বাজার বসানোর উদ্যোগ নিলে পানেশ্বর পাড়ার লোকজন এতে বাধা দেন।

তাদের দাবি, জমিটি ওয়াকফ সম্পত্তি এবং এটি কেবল কবরস্থান হিসেবে ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত।

বিরোধ মেটাতে প্রায় ১৫ দিন আগে ইউপি চেয়ারম্যান ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সালিশ বৈঠক হলেও কোনো চূড়ান্ত সমাধান হয়নি। শুক্রবার সকালে গোরস্থানে ব্যানার টাঙানোকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ফের উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে উভয় পক্ষ। সকাল ৮টা থেকে ৯টা পর্যন্ত চলে সংঘর্ষ।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষের সময় পুলিয়া ও পানেশ্বর পাড়ার ৫০ থেকে ৬০টি বাড়িঘর ও দোকানে ভাঙচুর চালানো হয়। একটি বিয়ের বাড়ির গেট ও গরুর খামারেও ভাঙচুরের অভিযোগ রয়েছে। পানেশ্বর পাড়ার বাসিন্দাদের দাবি, হামলার সময় প্রায় ২০ লাখ টাকার মালামাল লুট করা হয়েছে।

সংঘর্ষে দুই পক্ষের অন্তত ১২০ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে আমগড়া, নল্লাপাড়া ও হাসনাগাঁও গ্রামের ৫৪ জন আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। আহতদের কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে ছয়জনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। অন্যরা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন।

পানেশ্বর পাড়ার বাসিন্দা আব্দুল ওয়াহাব ও হোসেন মিয়া দাবি করেন, প্রায় ৮০ থেকে ৯০ বছর ধরে তাদের পূর্বপুরুষরা গোরস্থানটি দেখাশোনা করে আসছেন। সম্প্রতি প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা ব্যয়ে সেখানে মাটি কাটার কাজ করা হয়েছে। এ ছাড়া দেয়াল ও পিলার নির্মাণের জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য ১ লাখ ১৯ হাজার টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন বলেও জানান তারা।

তাদের অভিযোগ, আমগড়া গ্রামের কয়েকজনের নেতৃত্বে শুক্রবার সকালে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। গোরস্থানের জমির দলিল তাদের পক্ষে রয়েছে দাবি করে তারা প্রশাসনের মাধ্যমে বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধান চান।

অন্যদিকে আমগড়া গ্রামের কামাল পাশা গোরস্থানের পাশে দোকান নির্মাণের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, গোরস্থানের আধিপত্য নিয়েই মূলত বিরোধের সূত্রপাত। সালিশের পর পানেশ্বর পাড়ার লোকজন ওই এলাকায় গেলে সংঘর্ষ শুরু হয় বলে দাবি করেন তিনি।

রংছাতি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান পাঠান বাবুল ঘটনাটিকে দুঃখজনক উল্লেখ করে বলেন, পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত গোরস্থানের সার্বিক তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব ইউনিয়ন পরিষদকে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকা পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম