খুঁজুন
advertisement
advertisement
রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ১৫ ভাদ্র, ১৪৩৩

কোথায় যাচ্ছে কিশোরীরা? আড়াইহাজারে ৩ মাসে নিখোঁজ ৪০ কিশোরী

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৩০ আগস্ট ২০২৬, ৯:২৫ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
কোথায় যাচ্ছে কিশোরীরা? আড়াইহাজারে ৩ মাসে নিখোঁজ ৪০ কিশোরী

 যোগফল প্রতিবেদক:

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে কিশোরীদের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। পরিবারের সদস্যরা একের পর এক থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করছেন। গত তিন মাসে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে অন্তত ৪০ কিশোরী নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় জিডি হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এর মধ্যে সর্বশেষ বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) এক দিনেই উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে চার কিশোরী নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় থানায় জিডি করেন তাদের পরিবারের সদস্যরা। নিখোঁজ কিশোরীদের বয়স ১৪ থেকে ১৭ বছরের মধ্যে। তাদের মধ্যে দুজনের অবস্থান শনাক্ত করতে পেরেছে পুলিশ। বাকি দুজনের সন্ধানে অনুসন্ধান চলছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিখোঁজ কিশোরীদের মধ্যে স্কুল ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীও রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে মুঠোফোন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অ্যাপের মাধ্যমে পরিচিত কিংবা অপরিচিত তরুণদের সঙ্গে যোগাযোগের পর সম্পর্ক তৈরি হচ্ছে। পরে পারিবারিক বাধা, অভিভাবকের শাসন কিংবা সম্পর্ক মেনে না নেওয়ার আশঙ্কা থেকে কেউ কেউ স্বেচ্ছায় বাড়ি ছেড়ে চলে যাচ্ছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তবে নিখোঁজ হওয়া সব কিশোরীর ঘটনাকে প্রেমের সম্পর্কের সঙ্গে যুক্ত করা যাচ্ছে না বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কিশোর বয়সের আবেগ, পারিবারিক যোগাযোগের ঘাটতি, সন্তানদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের অভাব, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে অসচেতনতা এবং অভিভাবকের পর্যাপ্ত নজরদারির ঘাটতিও এসব ঘটনার পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে বলে তাদের ধারণা।

আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সবজেল হোসেন বলেন, গত তিন মাসে ৪০টি নিখোঁজের জিডি করা হয়েছে। কোনো কিশোরী নিখোঁজ হলে বিষয়টি গোপন না রেখে দ্রুত থানায় জানাতে হবে। নিখোঁজ কিশোরীর সাম্প্রতিক ছবি, মুঠোফোন নম্বর, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য, কার সঙ্গে যোগাযোগ ছিল এবং সম্ভাব্য কোথায় যেতে পারে—এসব তথ্য দ্রুত পুলিশকে দিলে অনুসন্ধানে সহায়তা পাওয়া যায়।

তিনি আরও বলেন, নিখোঁজ কিশোরীদের অবস্থান শনাক্তের পাশাপাশি তারা কোনো ধরনের প্রলোভন, চাপ বা প্রতারণার শিকার হয়েছে কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

এক অভিভাবক জানান, অনেক পরিবার সামাজিক সম্মানের কথা চিন্তা করে মেয়ের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি প্রকাশ করতে চায় না। প্রেমের সম্পর্কের বিষয়টি জানাজানি হওয়ার ভয়েও কেউ কেউ পুলিশকে জানাতে দেরি করেন। তার মতে, বিষয়টি গোপন রাখার পরিবর্তে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো হলে নিখোঁজ কিশোরীর অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা করা সহজ হয়।

আরেক অভিভাবক বলেন, মেয়ে নিখোঁজ হওয়ার পর বিষয়টি গোপন রাখলে সমস্যা আরও বাড়তে পারে। দ্রুত পুলিশকে জানানো হলে অন্তত তার অবস্থান শনাক্ত করার চেষ্টা করা সম্ভব।

সংশ্লিষ্টদের মতে, কিশোরীদের ঘর ছাড়ার ঘটনায় শুধু মুঠোফোন বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে দায়ী করলে সমস্যার পুরো চিত্র পাওয়া যাবে না। এর সঙ্গে পারিবারিক যোগাযোগের ঘাটতি, কিশোর বয়সের আবেগ, সন্তানদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের অভাব এবং অনলাইনে নিরাপদ যোগাযোগ সম্পর্কে সচেতনতার ঘাটতিও বিবেচনায় নিতে হবে।

আড়াইহাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুর রহমান বলেন, শুধু মুঠোফোন কেড়ে নেওয়া বা শাসন করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। কিশোর-কিশোরীদের সঙ্গে নিয়মিত কথা বলতে হবে। পাশাপাশি মুঠোফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নিরাপদ ব্যবহার সম্পর্কে তাদের সচেতন করতে হবে।

সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

চার গোলের ঝড়ে মেসির মায়ামি, মন্ট্রিলকে ৭-১ গোলে বিধ্বস্ত

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৩০ আগস্ট ২০২৬, ১১:৪০ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
চার গোলের ঝড়ে মেসির মায়ামি, মন্ট্রিলকে ৭-১ গোলে বিধ্বস্ত

 যোগফল প্রতিবেদক:

টানা পাঁচ ম্যাচ জয়হীন থাকার পর অবশেষে জয়ের পথে ফিরেছে ইন্টার মায়ামি। আর সেই ফেরার রাতটিকে স্মরণীয় করে রাখলেন লিওনেল মেসি। আর্জেন্টাইন মহাতারকার চার গোল ও এক অ্যাসিস্টে সিএফ মন্ট্রিলকে ৭-১ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে মায়ামি।

শনিবার (২৯ আগস্ট) মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) ম্যাচে নিজেদের মাঠে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে ইন্টার মায়ামি। এই জয়টি ক্লাবটির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ব্যবধানের জয় এবং এক ম্যাচে সর্বোচ্চ সাত গোল করার নতুন রেকর্ডও গড়েছে।

ম্যাচের ২০ মিনিটে টেলাসকো সেগোভিয়ার কর্নার থেকে হেড করে মায়ামিকে এগিয়ে দেন ক্যাসেমিরো। তবে ৩৭ মিনিটে ফ্যাবিয়ান হারবার্সের গোলে সমতায় ফেরে মন্ট্রিল।

এর মাত্র তিন মিনিট পরই মায়ামিকে আবার এগিয়ে দেন মেসি। ডান দিকের ফ্রি-কিক থেকে দুর্দান্ত শটে বল জালে পাঠান তিনি। ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে বিরতিতে যায় মায়ামি।

দ্বিতীয়ার্ধে শুরু হয় মেসির একক আধিপত্য। ৫২ মিনিটে তিন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে দুর্দান্ত একক প্রচেষ্টায় নিজের দ্বিতীয় গোল করেন তিনি। এরপর ৮০ মিনিটে মেসির পাস থেকে গোল করে ব্যবধান ৪-১ করেন লুইস সুয়ারেজ।

৮৩ মিনিটে গোলরক্ষকের ওপর দিয়ে চিপ করে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন মেসি। ৮৯ মিনিটে বদলি খেলোয়াড় আলেক্সান্ডার শ মায়ামির হয়ে ষষ্ঠ গোল করেন। আর যোগ করা সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে আরেকটি ফ্রি-কিক থেকে নিজের চতুর্থ গোল করে ৭-১ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করেন মেসি।

এটি এমএলএসে মেসির ক্যারিয়ারে প্রথম চার গোলের ম্যাচ। এই চার গোলের পর চলতি মৌসুমে তার গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮-তে। এর মাধ্যমে তিনি গোল্ডেন বুটের দৌড়ে শীর্ষে উঠে এসেছেন। ম্যাচে এক গোল করানোর ফলে মেসির অ্যাসিস্টও দাঁড়িয়েছে ১০টিতে।

সব মিলিয়ে পেশাদার ক্যারিয়ারে এটি মেসির এক ম্যাচে চার বা তার বেশি গোল করার নবম ঘটনা। অন্যদিকে, টানা পাঁচ ম্যাচ জয়হীন থাকার পর এই দুর্দান্ত জয় মায়ামিকে লিগের পয়েন্ট তালিকায় গুরুত্বপূর্ণ তিন পয়েন্ট এনে দিয়েছে।

মায়ামির নতুন কোচ ক্রিস্টিয়ান ‘কিলি’ গঞ্জালেজ এখনও যুক্তরাষ্ট্রের ওয়ার্ক পারমিট না পাওয়ায় ম্যাচটিতে দায়িত্বে ছিলেন অন্তর্বর্তী কোচ গুইলের্মো হোয়োস। তবে নিষেধাজ্ঞার কারণে তিনি ডাগআউটে ছিলেন না।

সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

বাল্যবিয়ে বন্ধ করতে গিয়ে ইউএনওর গাড়ি আটকে হামলার চেষ্টা, আটক ৭

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৩০ আগস্ট ২০২৬, ১১:১১ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
বাল্যবিয়ে বন্ধ করতে গিয়ে ইউএনওর গাড়ি আটকে হামলার চেষ্টা, আটক ৭

 যোগফল প্রতিবেদক:

 নওগাঁর আত্রাইয়ে সপ্তম শ্রেণির ১২ বছর বয়সী এক কিশোরীর বাল্যবিয়ে বন্ধ করতে গিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বাধার মুখে পড়তে হয়েছে। এ সময় ইউএনওর সরকারি গাড়ি আটকে আটক বরকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন বরপক্ষের লোকজন। পরে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনায় বর-কনেসহ সাতজনকে আটক করা হয়েছে।

শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার বিশা ইউনিয়নের সমাসপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সমাসপাড়া এলাকায় সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া ১২ বছর বয়সী এক কিশোরীর সঙ্গে আল আমিন নামের এক যুবকের বিয়ের আয়োজন করা হয়। খবর পেয়ে ইউএনও মো. মনিরুজ্জামানের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত ঘটনাস্থলে গিয়ে বিয়ের আয়োজন বন্ধ করে দেন। পরে বর আল আমিনকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার সময় বরযাত্রীদের একটি দল ইউএনওর সরকারি গাড়ির গতিরোধ করে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, প্রায় ৩০ জন বরযাত্রী উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে আটক বরকে ছিনিয়ে নেওয়ারও চেষ্টা করা হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে আত্রাই থানার ওসি মাহবুব আলম অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এ ঘটনায় প্রথমে বর, কনেসহ তিনজনকে আটক করা হয়। পরে অভিযান চালিয়ে আরও চারজনকে আটক করা হয়।

এদিকে বাল্যবিয়ের অনুষ্ঠানে সমাসপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সভাপতি মুনিরুল জামান মুনিরসহ কয়েকজন শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বাল্যবিয়েতে তাদের উপস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, মুনিরুল জামান মুনিরের ইন্ধনেই বরপক্ষ ইউএনওর গাড়ি আটকে বরকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মুনিরুল জামান মুনির বলেন, বিয়েটি দুই বছর আগে হয়েছে এবং কিছু আনুষ্ঠানিকতা বাকি ছিল। বরপক্ষের সঙ্গে আত্মীয়তার সম্পর্ক থাকায় তিনি সেখানে গিয়েছিলেন। ইউএনও এসে অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ার পর কিছুটা ঝামেলা সৃষ্টি হয়। তিনি উপজেলা প্রশাসনকে সহযোগিতা করেছেন এবং হামলায় ইন্ধন দেওয়ার অভিযোগ সঠিক নয়।

আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে গিয়ে বাল্যবিয়েটি বন্ধ করা হয়। বরকে আটক করে নিয়ে আসার সময় বরপক্ষের লোকজন সরকারি গাড়ি আটকে দেয় এবং সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে। তারা পুলিশ ও প্রশাসনের লোকজনের ওপর হামলা এবং আটক ব্যক্তিকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালায়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

রোববার (৩০ আগস্ট) সকালে ইউএনও মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান জানান, বাল্যবিবাহ সম্পাদনের অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনে বরের বাবা মো. ইয়ানুস শেখ ও কনের বাবা জুয়েলকে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।

এ ছাড়া সরকারি কাজে বাধা, আটক ব্যক্তিকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা এবং মোবাইল কোর্ট পরিচালনার দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্য, পেশকার ও গ্রাম পুলিশের ওপর হামলার চেষ্টার অভিযোগে সমাসপাড়া গ্রামের মান্নানকে এক বছর, মো. রাব্বি শেখকে ছয় মাস এবং মো. মাহাতাব আলীকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া বর ও কনের বাবার কাছ থেকে বাল্যবিবাহসংক্রান্ত আইন মেনে চলার বিষয়ে মুচলেকা নেওয়া হয়েছে।

সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

রাজধানীর তক্ষশিলা বিদ্যালয়ে শিশুদের রঙিন উৎসব

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৩০ আগস্ট ২০২৬, ১১:১৩ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
রাজধানীর তক্ষশিলা বিদ্যালয়ে শিশুদের রঙিন উৎসব

যোগফল প্রতিবেদক:

রঙ-তুলিতে ক্যানভাসে ফুটে উঠেছে শিশুদের চোখে দেখা বাংলাদেশ, ইতিহাস ও আগামীর স্বপ্ন। রাজধানীর তক্ষশিলা বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে নানা রঙের আয়োজনে মেতে ওঠে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা।

শনিবার (২৯ আগস্ট) রাজধানীর ধানমণ্ডির ২৭ নম্বর এলাকার উদ্যোগে এবং তক্ষশিলা বিদ্যালয়ের সহযোগিতায় ‘সংস্কৃতিই জাগরণের প্রথম সূর্য’ শীর্ষক চিত্রাঙ্কন উৎসব-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শিশুদের সৃজনশীলতা, কল্পনাশক্তি ও শিল্পচর্চায় উৎসাহিত করার লক্ষ্যে আয়োজিত এ উৎসবে রাজধানীর ১০টির বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রথম থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়।

সকালে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘আমাদের ভয় কাহারে’ সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে উৎসবের সূচনা হয়। তক্ষশিলা বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ নাদিমুল ইসলাম ও ২৭ ধানমণ্ডির ফজলুল কবীর তুহিন শিশুশিল্পী ও আমন্ত্রিত অতিথিদের সঙ্গে সম্মিলিতভাবে গানটিতে অংশ নেন।

এরপর শুরু হয় চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা। বয়সভিত্তিক তিনটি বিভাগে শিক্ষার্থীদের ভাগ করা হয়। প্রথম থেকে তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য বিষয় ছিল ‘হৃদয়ে আঁকা বাংলাদেশ’। চতুর্থ থেকে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা ‘আমার আঁকায় অমর যাঁরা’ বিষয়ে ছবি আঁকে। আর সপ্তম থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বিষয় ছিল ‘ছোট হাতে বড় শপথ’।

বিভিন্ন বয়সের শিশুদের আঁকা ছবিতে দেশ, ইতিহাস ও ভবিষ্যৎ নিয়ে তাদের নিজস্ব ভাবনার প্রকাশ ঘটে। প্রতিযোগিতা শেষে অংশগ্রহণকারী প্রত্যেক শিশুর হাতে সনদপত্র ও উপহার তুলে দেন চিত্রশিল্পী মনিরুজ্জামান, কিরীটী রঞ্জন বিশ্বাস ও শামসুল আলম আজাদ।

এ ছাড়া প্রতিটি বিভাগ থেকে পাঁচজন করে মোট ১৫ জন শিক্ষার্থীকে বিশেষ পুরস্কার দেওয়া হয়।

তক্ষশিলা বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ নাদিমুল ইসলাম বলেন, “একটি শিশু যখন রং-তুলি হাতে নেয়, তখন সে শুধু ছবি আঁকে না; তার ভাবনা, স্বপ্ন ও দেশের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের একটি মাধ্যমও খুঁজে পায়। আমরা চাই, আমাদের শিক্ষার্থীরা বইয়ের বাইরেও এই ভাষাটা রপ্ত করুক। শিল্প ও সংস্কৃতির চর্চা ছাড়া প্রকৃত মানবিক মানুষ গড়ে তোলা সম্ভব নয়। সেই বিশ্বাস থেকেই তক্ষশিলা বিদ্যালয় বরাবরই এমন আয়োজনে যুক্ত থাকে।”

আয়োজনের উদ্যোক্তা ২৭ ধানমণ্ডির ফজলুল কবীর তুহিন বলেন, “শিশুরাই আগামী দিনের বাংলাদেশের প্রতিনিধি। তারা আজ রং দিয়ে যে বাংলাদেশ এঁকেছে, ভবিষ্যতে সেই বাংলাদেশ গড়ার দায়িত্বও তাদের। আমরা চাই, প্রতিটি শিশু তার সৃজনশীলতার মধ্য দিয়ে নিজের চিন্তা প্রকাশ করার সাহস পাক। সংস্কৃতিচর্চাই একটি জাতিকে সত্যিকারের জাগরণের পথ দেখাতে পারে।”

আয়োজকদের মতে, শৈশব থেকেই শিল্প, সংস্কৃতি ও দেশপ্রেমের চর্চার সুযোগ পেলে শিশুরা ভবিষ্যতে দক্ষতার পাশাপাশি সংবেদনশীল ও মানবিক নাগরিক হিসেবেও গড়ে উঠতে পারে। পড়াশোনা ও বিভিন্ন প্রতিযোগিতার চাপে থাকা শিশুদের জন্য এ ধরনের আয়োজন আনন্দের পাশাপাশি নিজেদের ভাবনা ও সৃজনশীলতা প্রকাশের সুযোগ তৈরি করে।

তানজিলা / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম